বৃহস্পতিবার । জুন ১৮, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১৮ জুন ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

‘বুড়িয়ে’ যাওয়ার আগেই কি ‘ফুরিয়ে’ যাচ্ছেন রোনালদো!


ronaldo

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো । রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে মঙ্গলবারের দিনটি আলোচনায় ছিল বিশ্বের তিন সুপারস্টার—কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে। কিন্তু পরের দিন সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করতে ব্যর্থ হলেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

ফ্রান্সের হয়ে সেনেগালের বিপক্ষে ২ গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এমবাপ্পে। নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে জোড়া গোল করেন হালান্ড। আর আর্জেন্টিনার হয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে নাম লেখান মেসি। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে উঠে আসেন।

কিন্তু বুধবার হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ ড্র ম্যাচে আলোচনায় আসতে পারেননি রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন। এর আগের পাঁচ বিশ্বকাপেই তার গোল আছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল করতে পারলে ছয়টি বিশ্বকাপেই গোল করার ইতিহাস হয়ে যেত। প্রথম ম্যাচে তা হলোনা।

পুরো ম্যাচে রোনালদো ছিলেন বেশ ম্লান। এই ম্যাচটি নিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোলহীন তিনি। পুরো ম্যাচে তার বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫টি, যা পর্তুগালের মূল একাদশে থাকা আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম।

তার পারফরম্যান্স নিয়ে তাই সমালোচনাও হচ্ছে। সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে শেষ দিকে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে না নেওয়ার বিষয় নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত। তিনি রোনালদোকে বদলি করেননি, কারণ তিনি ভয় পেয়েছেন।’

অন্যদিকে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি অবশ্য রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন- ‘রোনালদোর মানসিকতা সবসময়ই আলাদা, তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন এবং বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।’

রুনি বলেন, ‘ও সবসময় সুযোগ চায়। ভালো সুযোগ পেলে অবশ্যই গোল করবে।’

তবে ম্যাচে রোনালদো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও তাকে দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দিলেও একটি শট পোস্টের বাইরে যায় এবং অন্যটি ডিফেন্ডারের চাপে সঠিকভাবে নিতে পারেননি।

সাবেক ফ্রান্স তারকা থিয়েরি অঁরি অবশ্য সরাসরি রোনালদোকে দুষছেন। ‘রোনালদোর একটি সিদ্ধান্তের কারণে সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেস সহজ গোলের সুযোগ হারান। তিনি বলেন, রোনালদো যদি জায়গা ছেড়ে দিতেন, তাহলে ফার্নান্দেস সহজে গোল করতে পারতেন।’

সাবেক ফ্রান্স ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশি বলেন, ‘রোনালদোর মতো বড় তারকার উপস্থিতি কখনো কখনো সতীর্থদের ওপর মানসিক প্রভাব ফেলে, যার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করে।’

তার মতে, ‘সবসময়ই এমন হয় না যে এটি ভালো বা খারাপ। তবে কখনো কখনো বড় তারকার উপস্থিতি দলের খেলার স্বাভাবিকতা বদলে দেয়।’

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার অন্য তিন সুপারস্টার যখন বিশ্বকাপে আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন পরের দিন রোনালদোর জন্য ম্যাচটি ছিল ভীষণ হতাশার।

বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস