
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী কাফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালায়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এর আগে তারা জানিয়েছিল, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কাঠামোগত সমঝোতা ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে এবং চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্নের প্রচেষ্টার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন ইস্যুতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ইসরায়েল অনেক দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের একটি হামলা তার কাছে ‘অতিরিক্ত’ মনে হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে নেতানিয়াহু সোমবার বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন বজায় থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের ওপর নতুন কোনো ইসরায়েলি হামলা বা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে যে লেবানন ইস্যু চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করতে পারে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন।
ট্রাম্পের দাবি, নতুন এই চুক্তির ফলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।













































