শনিবার । জুন ২০, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২০ জুন ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩২


Lebanon

ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

ইরান ইতিমধ্যেই সদ্য খুলে দেওয়া হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ (নাবাতিয়ে) জেলায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, কফার রিমান (কফর রেমান) গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একজন লেবানিজ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

এনএনএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাইর জেলার বারিশ গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য— বাবা, মা এবং তাদের দুই সন্তান নিহত হয়েছেন।

পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমোর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা চালানো হলে সেখানে অবস্থানরত পরিবারের চারজন সদস্য নিহত এবং একজন আহত হন।

এদিকে সাইদা জেলার কানারিত এলাকায় আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র।

এই হামলাগুলো এমন সময় ঘটল, যখন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছে, এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে যুদ্ধবিরতিটি এখনও বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে লেবাননের পরিস্থিতির ওপরই বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অনেক কিছু নির্ভর করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ হওয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার উদ্দেশ্য দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা।

২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে বৈরুত।

চলতি মাসের শুরুতে প্রস্তাবিত এক চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তর দিকে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও, সেখানে ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, রাতের বেলায় নাবাতিয়েহর কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, হিজবুল্লাহ রাতভর দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত তাদের সেনাদের দিকে ৫০টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। ফলে লেবানন সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।