
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে দুইদিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সরাসরি চীন সফরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সময় রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সোমবার তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে চীন যাবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজারে সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মালয়েশিয়ায় অবস্থান শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ সফর উপলক্ষে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৭ থেকে ২৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল থাকবে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন বা সামার দাভোস ফোরামে অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সরকারের আশা, এই সফরের মাধ্যমে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন গতি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।






































