রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ২১ জুন ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার

টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ


BD AUS T20 (

ছবি: ক্রিকইনফো

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

এর আগে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪ উইকেট ও ৭ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অষ্টমবারের মতো তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো টাইগারদের।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ওপেনার তানজিদ হাসান ৫, সাইফ হাসান ১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন ১ রান করে ফিরলে ইনিংসের ভিত নড়ে যায়।

এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নুরুল ৬ রান করে আউট হন। এরপর শামীম হোসেন শূন্য রানে ফিরলে ৩৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

এই অবস্থায় তাওহিদ হৃদয় একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। রিশাদ হোসেনের সঙ্গে ২৬ এবং পরে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন তিনি।

দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে হৃদয় খেলেন দায়িত্বশীল ও দৃঢ়চেতা ইনিংস। ৫১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৬১ রান করেন তিনি। এটি ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্পেনসার জনসন, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জয়ের জন্য ১১০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লেতেই ৫৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সফরকারীরা।

অধিনায়ক মিচেল মার্শ ছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। মাত্র ২৩ বলে নিজের ১৪তম টি-টোয়েন্টি অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মার্শ।

জশ ইংলিশ ১৭ এবং কুপার কনোলি ১৫ রান করলেও তাদের বিদায় দিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে ১০০ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড মাত্র ৩ বলেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন। ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচসেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। আর পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন ম্যাট রেনশ।

ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে এমন হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের জন্য হতাশার। অন্যদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।