শুক্রবার । জুন ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক স্বাস্থ্য ২৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছর, লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে উদযাপন শুরু


WAB

বিশেষ লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০ বছর পূর্তির বছরব্যাপী উদযাপন শুরু করেছে

বাংলাদেশে চার দশকের পথচলা পূর্ণ করেছে ওয়াটারএইড। দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি, মর্যাদাপূর্ণ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর হাইজিন নিশ্চিত করার এই দীর্ঘ যাত্রা জনগোষ্ঠী, সরকার, অংশীদার, নাগরিক সমাজ, দাতা সংস্থা, গণমাধ্যম এবং ওয়াটারএইডের কর্মীদের সম্মিলিত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

সম্প্রতি বিশেষ লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ৪০ বছর পূর্তির বছরব্যাপী উদযাপন শুরু করেছে। বিশেষ এই আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওয়াটারএইড নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পাশাপাশি, বর্তমান ও সাবেক সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. খায়রুল ইসলাম, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, ওয়াটারএইড নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদর্শন নেওপানে এবং ওয়াটারএইড পাকিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুহাম্মদ জুনাইদ।

চার দশক ধরে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ দেশের ওয়াশ খাতের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে আসছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সেবায় সহায়তা, সেবা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, যথোপযুক্ত ও জনবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকারকে অনুপ্রাণিত ও সহযোগিতা করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ সেবা প্রসারসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্থাটির কাজ এগিয়েছে অংশীদারত্ব, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, একনিষ্ঠতা ও মানুষকেন্দ্রিক উদ্যোগকে ভিত্তি করে।

৪০ বছর পূর্তির এই উদযাপন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সেই সম্মিলিত উত্তরাধিকারকে সামনে এনেছে, যা গড়ে উঠেছে মানুষের পাশে থেকে, মানুষের সঙ্গে এবং মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতায়। একই সঙ্গে এটি এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি নতুন অঙ্গীকার, যেখানে প্রত্যেকে, সর্বত্র ও সর্বদা নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর হাইজিনের অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এই উদযাপন কৃতজ্ঞতা, আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন অঙ্গীকারের এক বিশেষ মুহূর্ত। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের যাত্রা গড়ে উঠেছে সেইসব মানুষ ও জনগোষ্ঠীর হাত ধরে যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করি; সেই সহকর্মীদের অবদানে যারা এই মিশনকে এগিয়ে নিয়েছেন; এবং সেই অংশীদার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় যারা আমাদের পাশে থেকেছেন। আমি আশাকরি ৪০ বছর পূর্তির এই সময়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করবে।’

হাসিন জাহান বলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছরের পথচলা দেখিয়েছে, ধারাবাহিক অঙ্গীকার, আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব এবং জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক উদ্যোগ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে এটি নতুন উদ্যম, সাহস ও আশার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্তির বছরজুড়ে থাকবে নানা আয়োজন ও সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সম্মিলিত অর্জন উদযাপন, দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে সম্মান জানানো এবং সবার জন্য ওয়াশ অধিকার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।