বৃহস্পতিবার । জুন ২৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ জুন ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার


Venezuela earthquake

ভেনেজুয়েলায় শত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই বিরল ‘ডাবলট’ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অঞ্চলটিকে ‘দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাজধানী কারাকাসেও বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং রাস্তাঘাটে আতঙ্কিত মানুষকে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের একজন জীবিত সাক্ষী বলেন, ‘জীবনে এমন ভয়ঙ্কর কম্পন কখনও দেখিনি।’ অপর এক বাসিন্দা, যিনি ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন থেকে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসেন, বলেন, ‘চারপাশের দৃশ্যটা যেন কোনো ভৌতিক সিনেমার মতো ছিল।’

ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। কারাকাসের মেট্রো সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কয়েকজন শিশুকে উদ্ধার করতে দেখা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ভেনেজুয়াকে মানবিক সহায়তা, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়ায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্প খুবই বিরল। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশকও অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।