cosmetics-ad

৭ মানবিক পুলিশের গল্প

ctg-police

ওরা সাতজন মানবিক পুলিশ সদস্য। ডিউটি পরবর্তী সময়ে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়াই ওদের ব্রত। গত আট বছর ধরে নিভৃতে মহান এই কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশের কনস্টেবল এবং পুলিশ হাসপাতালে মেডি‌ক‌্যাল অ‌্যাসিসটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান সাত সদস্যের এই টিমকে ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ হিসেবে দাপ্তরিক স্বীকৃতি দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পথে ঘাটের অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পুলিশ কমিশনার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই টিমকে এক লাখ টাকা অনুদানও দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পিআর এন্ড আইসিটি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ২০১১ সাল থেকেই পথে প্রান্তরে অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করছিল কয়েকজন পুলিশ সদস্য। বিশেষ করে পথের ধারে, ফুটপাতে ডাস্টবিনে পড়ে থাকা নাম পরিচয়হীন, আশ্রয়হীন নানা ভাবে অসুস্থ মানুষের সেবায় কাজ করেন এই পুলিশ সদস্যরা।

এই টিমে আছেন দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সাতজন কনস্টেবল। এরা হলেন- মো. শওকত হোসেন, মো. হান্নান, মো. মাঈনুদ্দীন, মো. মাহবুবুল আলম, মো. ইয়াছিন আরাফাত, মো. রবিউল হোসেন এবং মো. এমরান হোসেন।

এদের টিম লিডার শওকত হোসেন। তারা নিজের ডিউটি টাইম শেষ করে বেড়িয়ে পরেন রাস্তায় বা হাসপাতালে। খুঁজে খুঁজে অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ মানুষদের সেবা, চিকিৎসা ও খাবার দেন। নিজেদের বেতনের টাকা থেকে অর্থ সাশ্রয় করে তারা গত আট বছর ধরে মানুষের সেবা করে আসছেন।

এই বিষয়টি চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমানের নজরে আসায় তিনি এই টিমের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সাত সদস্যের এই পুলিশ টিমকে তিনি ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ হিসেবে ঘোষণা দেন। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দেন এক লাখ টাকা।

রোববার থেকে এই মানবিক পুলিশ ইউনিট সমগ্র চট্টগ্রামে নাম পরিচয়হীন অসহায় দুস্থ অসুস্থ মানুষের সেবায় কাজ করবে বলে জানান উপ-কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক।

মানবিক পুলিশ ইউনিটের টিম লিডার শওকত হোসেন জানান, ফুটপাতে আশ্রয়হীন কিছু মানুষ থাকে যাদের পা কিংবা শরীরে ক্ষত তৈরি হয়ে পচন ধরে গেছে, তাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। ক্ষতস্থানে পোকা বাসা বাঁধে। এমন মানুষের চিকিৎসা সেবায় কেউ এগিয়ে আসেন না। তারা নিজেরা চলাফেরা করতে পারেনা। আমরা এমন অসহায় মানুষদের সেবা দিয়ে আসছি ২০১১ সাল থেকে।

মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয় বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের প্রশংসা করেছেন। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবিক পুলিশ ইউনিট হিসেবে আমাদের টিমকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আমরা আরো পূর্ণ উদ্যোমে দুস্থ অসহায় মানুষের সেবা দিতে পারবো।