cosmetics-ad

গ্রিনকার্ডের আশায় ‘ভুয়া’ বিয়ে

marriage
প্রতীকী ছবি

ভুয়া বিয়ে দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। তাদের এই লোভে পড়ে অনেকে বিপদে পড়েছেন। গ্রিনকার্ড পাওয়ার আশায় প্রতারক চক্রের হাতে অনেকে অর্থ খুইয়েছেন। এমনকি কাউকে কাউকে জেল-জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বিয়ের পর তার স্ত্রী-সন্তান, পিতা-মাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে তার কাছের স্বজনেরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পান। স্বল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যান গ্রিনকার্ড। কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে এই বৈধ পথকে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটা অঙ্কের ডলারের বিনিময়ে একশ্রেণির লোভী মানুষ এভাবে প্রতারণা করে আসছে।

অ্যাসলি ইয়ান নাগুয়েন (৫৫) নামে ভিয়েতনামিজ বংশোদ্ভূত এক নারী টেক্সাসের হিউসটন এলাকায় একটি বাড়ির ঠিকানায় ধাপে ধাপে ৪০ নারী-পুরুষের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করেন। বিয়ের পর তাদের জন্য গ্রিনকার্ডের আবেদন করা হয়। এদের মধ্যে ২০ জনের গ্রিনকার্ড অনুমোদনও হয়ে যায়। বিষয়টি সন্দেহ হলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ভুয়া বিয়ের তথ্য বেরিয়ে আসে।

ওই ঘটনায় পরে অ্যাসলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা করেন। নায়াগ্রা ভ্রমণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন গায়ানিজ বংশোদ্ভূত নাগরিক সুলেমান ইব্রাহিম (৩৯)। সেখানে এসে অর্থের বিনিময়ে এক মার্কিন নারীকে বিয়ে করেন।

এরপর গ্রিনকার্ডের জন্য সুলেমানকে ইমিগ্রেশন বিভাগে ডাকা হয়। সেখানে ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এলোমেলো উত্তর দেন তিনি। এছাড়া বিয়ে করা ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও তার ছিল না। সুলেমান ইব্রাহিমের অন্য একজনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি ধরা পড়লে ফেডারেল কোর্ট তার ভিসা বাতিল করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে।

২০০৮ সালে নাইজেরীয় নাগরিক কাপ্তম (৩১) স্টুডেন্ট ভিসায় নিউইয়র্কে আসেন। এরপর তিনি এক মার্কিন নারীকে বিয়ে করেন। কাপ্তমের বিয়ের বিষয়টি ভুয়া বলে ধরা পড়ে এক ছদ্মবেশী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ভুয়া বিয়ে দেখিয়ে নিউইয়র্কের একাধিক নাগরিক পারিবারিক অভিবাসন ভিসায় নিজের দেশ থেকে লোক নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কে বসে অর্থের বিনিময়ে কাগজে-কলমে স্বামী-স্ত্রীকে ডিভোর্স দেখিয়ে অন্যজনকে বিয়ে করে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করেছেন-এমন ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় আদালতে প্রমাণিত হলে তা ফেডারেল ক্রাইম বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশিদের মধ্যেও অনেকেই এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। নাম-পরিচয় উল্লেখ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, তিন বছর আগে এমন এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে তিনি ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ খুইয়েছেন। এখন এই স্বদেশির নামে ইমিগ্রেশন বিভাগ তদন্ত করছে। তদন্তের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই বাংলাদেশি প্রবাসী।

ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে গ্রিনকার্ড বানানো প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি মাহফুজুর রহমান বলেন, এ রকম কেউ করে থাকলে, আর বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হলে তা ফেডারেল ক্রাইম হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কোন অবস্থায়ই এ ধরনের ফাঁদে পা না বাড়াতে তিনি বাংলাদেশি অভিবাসীদের পরামর্শ দিয়েছেন।