sentbe-top

আপনার ভালোবাসায় বাঁচবে একটি মেধাবী প্রাণ

যার জন্য এ আবেদন…

আমার বন্ধুমহলে গর্ব করার মতো মানুষ খুব বেশী নেই। হাতে গোনা যে দুয়েকজন আছে তাদের মধ্যে এই ছেলেটাকে আমি সবসময়ই আলাদা করে রাখি। যে কোন আড্ডা-আলোচনায় তাঁর এই ছোট্ট জীবনের কীর্তগুলো বুক ফুলিয়ে বলি। আমি তাঁর মাঝে প্রেরণা খুঁজি, জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়াদের তাঁর গল্প বলে সাহস যোগাই! বলছি নাহিয়ানের কথা। পুরো নাম খালিদ মুক্তাদির নাহিয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী।

খালিদ মুক্তাদির নাহিয়ান
খালিদ মুক্তাদির নাহিয়ান

প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় বাবা হারানো ছেলেটা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে জীবনের বাস্তবতা দেখে বড় হয়েছে। কিন্তু তাঁর প্রতিভা, মেধা আর নতুন কিছু করার অদম্য আকাঙ্ক্ষাটা দমিয়ে রাখতে পারে নি কোন কিছুই। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে ডিজাইনিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, নিজস্ব ব্যান্ড, নিত্যনতুন সব উদ্যোগ…বিশ-বাইশ বছরের একটা তরুণের পক্ষে যা যা করা সম্ভব তাঁর প্রায় সবই সে করে দেখিয়েছে। বছর দুয়েক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে পেয়েছে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্যোক্তার পুরষ্কার। স্বীকৃতির তালিকাটা তাঁর খুব ছোট নয়!

বন্ধুর মা অসুস্থ, টাকা লাগবে? নাহিয়ান আছে না? অমুকের ভাইয়ের ক্যান্সার, অনেক টাকা দরকার? নাহিয়ান থাকতে চিন্তা কি? ঠিকই একটা উপায় করে ফেলবে!

সেই নাহিয়ান; আমার অসম্ভব কর্মচঞ্চল, তারুণ্যদীপ্ত, প্রতিভাবান, মেধাবী, সৃজনশীল বন্ধুটা নিজেই এখন অন্যের সাহায্যপ্রার্থী। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়ছে এক বছরেরও বেশী সময় ধরে। উপরওয়ালার অপরিসীম মেহেরবানি আর  নিজের অসম্ভব মানসিক দৃঢ়তাই হয়তো তাঁকে এ যুদ্ধে টিকিয়ে রেখেছে এতগুলো দিন।

দুই দফায় বোন মেরো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টে খরচ হয়ে গেছে প্রায় এক কোটি টাকা। নাহিয়ানকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে চিকিৎসকরা আর একবার ব্যয়বহুল এই চিকিৎসাটি করতে চাইছেন যার জন্য প্রয়োজন আরও ৩০ লক্ষ টাকা।

ভরসা এখন আপনি!

দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ভালো মনের মানুষগুলোর সহযোগিতায় নাহিয়ান এ যুদ্ধটা এতদিন চালিয়ে আসতে পেরেছে। তাঁর পরিবারের সম্ভব সবটুকু সম্বল শেষ হওয়ার পথে। একমাত্র বড় ভাই-ভাবী নিজেদের নতুন সংসার, কর্মস্থল ছেড়ে ভাইকে সুস্থ করার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দিনশেষে মানুষের ভালোবাসা, ভাই-ভাবীর নিরলস সংগ্রাম ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে খালি হতে বসা ব্যাংক অ্যাকাউন্টটাই!

জীবন-মৃত্যুর বিষয়গুলো উপরওয়ালার হাতে। কিন্তু টাকার অভাবে এমন মেধাবী একটা প্রাণ বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধে আমরা হাল ছেড়ে দিতে পারি না! আমরা আমাদের চেষ্টায় কোন ত্রুটি রাখতে চাই না।

আমরা বন্ধুরা আমাদের পরিচিত-অর্ধ পরিচিত প্রায় সব মহলেই যোগাযোগ করে ফেলেছি। সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসেছিলেন বলেই চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ বহন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ষোল কোটি মানুষের দেশে আমাদের গণ্ডিটাও তো খুব বড় নয়! এক কোটি টাকার ব্যবস্থা যখন করা গেছে, আমরা বিশ্বাস করি আর ৩০ লাখ টাকার সংস্থান খুব কঠিন কিছু হবে না। এই দেশের মানুষ এবং দেশ থেকে বহুদূরে প্রবাসে থাকা মানুষগুলোর উপর আমাদের আস্থা, বিশ্বাস আছে।

নাহিয়ানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে তহবিল সংগ্রহ
নাহিয়ানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে তহবিল সংগ্রহ

এই আবেদন যাদের কাছে পৌঁছাবে তাঁরা কেউই আমাদের খালি হাতে ফেরাবেন বলে বিশ্বাস রাখি। সে বিশ্বাসের জায়গাটুকু থেকে একটি অসম্ভব প্রতিভাবান তরুণ প্রাণ বাঁচাতে আপনাদের কাছে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। নাহিয়ানের শৈশব বন্ধু হিসেবে এইটুকু নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ভালোবেসে করা আপনার এইটুকু সাহায্য রক্ষা করবে  বাংলাদেশের একটি অমূল্য রত্ন!

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ জাকারিয়া মোহাইমেন, অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০০৩৪১২১০০০০৫৬৫২, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লি. কাকরাইল শাখা, ঢাকা। সুইফট কোড: SEBDBDDH, ফোন:০১৬৮৭১৫৭২৯৯।

যে কোন প্রয়োজন কিংবা তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন নাহিয়ানের বড় ভাই জাকারিয়া মোহাইমেন জ্যোতির সাথেঃ ০১৭৩০০০৬৬৪৫।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে সমস্যা হলে অথবা অন্য কোন মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চাইলে যোগাযোগ করুন +৮৮০১৬৭০০৬৫২৭৯ এই নম্বরে।

 

আপনাদের ইতিবাচক সাড়ার প্রত্যাশায়-

নাহিয়ানের একজন বন্ধু

sentbe-top