
ইসরায়েলের নতুন লেজার ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন বিম। ছবি: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েল প্রথমবারের মতো আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করতে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। আয়রন ডোমের আদলে তৈরি এই নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়রন বিম’। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন দপ্তর এবং দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের যৌথ উদ্যোগে এই লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবাহিনীর কাছে এর নিয়ন্ত্রণভার হস্তান্তর করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলো। তিনি দাবি করেন, এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সফলভাবে একাধিক আকাশ হামলা প্রতিহত করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই অর্জন ইসরায়েলের শত্রুদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। প্রায় এক দশক ধরে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ চলছিল এবং বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক।
রাফায়েলের চেয়ারম্যান ইউভাল স্টেনিৎজ জানান, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েল এখন এমন একটি কার্যকর লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে, যা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যেকোনো ধরনের আকাশ হামলা মোকাবিলায় সক্ষম।
নতুন এই ব্যবস্থা ইসরায়েলের বিদ্যমান আয়রন ডোম ও ডেভিড’স স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরের শুরুতেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজ শেষ হয়েছে এবং মাসের শেষ নাগাদ এটি মোতায়েন করা হবে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পায়। তেহরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানে। ইসরায়েল স্বীকার করেছে, ওই সংঘাতে ৫০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করে এবং এতে ২৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হন।






































