
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীত ও ভারী তুষারপাতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
দেশজুড়ে তুষার ও বরফের কারণে আবহাওয়া দপ্তর হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আরও তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই শীত মৌসুমের সবচেয়ে শীতল রাত রেকর্ড করা হয়। ইংল্যান্ডের কামব্রিয়ার শ্যাপ এলাকায় তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
প্রচণ্ড শীতের প্রভাবে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনশায়ার, শেটল্যান্ড ও অর্কনি অঞ্চলে বড়দিনের ছুটির পরও বহু শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরতে পারেনি। অনেক এলাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওয়েলসের গুইনেড, অ্যাঙ্গলসি ও কারমার্থেনশায়ারসহ একাধিক অঞ্চলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে বন্ধ রয়েছে ১৭০টির বেশি স্কুল।
পরিবহন খাতেও চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। লিভারপুল জন লেনন বিমানবন্দরে রানওয়ে বরফে ঢেকে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেলফাস্ট ও ডেরি বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে লন্ডন থেকে নেদারল্যান্ডসগামী ইউরোস্টার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলেও ভারী তুষারপাতে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে অ্যাবারডিন ও আশপাশের এলাকায় সব বাস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলে জরুরি পরিষেবা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চরম ঠান্ডার কারণে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে লক্ষাধিক মানুষ সরকারের ‘কোল্ড ওয়েদার পেমেন্ট’ কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা শীতল বাতাস আরও কয়েকদিন যুক্তরাজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং নতুন করে তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে।







































