শুক্রবার । মে ১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার

পোস্টাল ব্যালট: অগ্রগতি, অনিয়ম ও শাস্তি নিয়ে যা জানাল ইসি


ec

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অগ্রগতি, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব বিষয় নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেন।

তিনি জানান, প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালট গ্রহণ করেছেন। তবে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ভুল ঠিকানার কারণে ফেরত এসেছে, যার বেশিরভাগই মালয়েশিয়া থেকে।

মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় কিছু এলাকায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করায় বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনের ঘটনা ঘটেছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যালট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইসি বাহরাইনের একটি উদাহরণও উল্লেখ করেন। সেখানে এক এলাকায় একসঙ্গে ব্যালট বিতরণের ভিডিও পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বাহরাইন পোস্টকে মৌখিক নোট দেওয়া হয়েছে এবং ব্যালটগুলো ফেরত এনে ব্যক্তিগতভাবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সিপিআর (ন্যাশনাল আইডি সমমান) দেখানো ছাড়া কোনো ব্যালট হস্তান্তর করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ওমান ও কুয়েতের কিছু ভিডিও যাচাই করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে সেগুলো বাল্ক বিতরণের প্রক্রিয়ার বাস্তবতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসি জানান, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ছাড় নেই। অনিয়ম ধরা পড়লে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেশীয় ভোটের ব্যালট ছাপানো ও বিতরণ শুরু হবে। প্রয়োজনে প্রবাসীদের জন্যও ‘অ্যাকচুয়াল ব্যালট’ পাঠানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

ইসি মন্তব্য করেন, এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ, এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে যেন প্রবাসী ভোটারের এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।