
আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের কোনো পরিকল্পনা পাকিস্তানের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশকে সমর্থন জানালেও, টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পথে হাঁটবে না পাকিস্তান।
রেভস্পোর্টজকে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, যদি বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো না হয়, তবুও পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করবে না। সূত্রটির ভাষায়, “না, এটা পিসিবির অবস্থান নয়।”
ওই সূত্র আরও জানায়, পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ, পাকিস্তান আগেই শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ খেলতে সম্মত হয়েছে। “কিছু মানুষ ইস্যুটি উসকে দিতেই এসব কথা ছড়াচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।
এর আগে পাকিস্তানের কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে পিসিবি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে পরে টিম ম্যানেজমেন্টকে ব্রিফ করা হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান বলেছে, ভারতে খেলতে না যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য। জানা গেছে, চলমান এই সংকটে কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সমর্থনের জন্য বিসিবি পিসিবির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করে, যেন নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো হয়। তবে আইসিসির নিরাপত্তা টিম জানিয়েছে, ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। বিসিবিও এ বিষয়ে শক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি।
এরপরও বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতে দল না পাঠানোর অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে বিসিবি প্রস্তাব দেয়, লজিস্টিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে গ্রুপ ‘বি’-তে এবং আয়ারল্যান্ডকে গ্রুপ ‘সি’-তে স্থানান্তর করা হোক।
গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আইসিসি আয়ারল্যান্ডকে আশ্বাস দিয়েছে, তাদের গ্রুপ পরিবর্তনে বাধ্য করা হবে না। এদিকে, বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে নির্ধারিত রয়েছে।
আইসিসি সূচি পরিবর্তনে অনাগ্রহী। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন বিসিবির হাতেই। বাংলাদেশকে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। অংশ না নিলে পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার ঝুঁকিও রয়েছে, কারণ এতে আইসিসির রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ














































