বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ১৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

ঋণগ্রস্ত’ প্রার্থী তালিকার শীর্ষে বিএনপি, পঞ্চমে জামায়াত, ৪৮ শতাংশ ব্যবসায়ী: টিআইবি


ঋণগ্রস্ত’ প্রার্থী তালিকার শীর্ষে বিএনপি, পঞ্চমে জামায়াত, ৪৮ শতাংশ ব্যবসায়ী: টিআইবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন ১৯৮১ জন হাজার প্রার্থী। যার মাঝে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র আর ১৭৩২ জন দলীয় প্রার্থী। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। এইসব প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। তাদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রার্থীদের ইশতেহার নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এবারের ভোটে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী; দুই দলের হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শতকোটি টাকার মালিক।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। যা বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

এছাড়া, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নাম কর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি। আনেক প্রার্থী ঋণখেলপি হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ দেয়ায় ইসি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রার্থীদের তথ্য গোপনের তথ্য-ও টিআইবির হাতে আছে বলে জানানো হয়।