
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৭ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভির বরাতে ইংরেজি দৈনিক ডন শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি স্থানে একযোগে হামলার চেষ্টা চালায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে সময়োচিত ও কার্যকর অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ এসব হামলা প্রতিহত করে। এসব সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নামকরণের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, গোয়াদার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এক বেলুচ শ্রমিকের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বেতার সংস্থা রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে। অভিযানে আরও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গত দুই দিনে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোট ৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শনিবার সকালে একাধিক স্থানে হামলার চেষ্টা চালানো হলেও বেলুচিস্তান পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের যৌথ অভিযানে তা প্রতিহত করা হয় এবং এ সময় আরও ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
পরিস্থিতির কারণে কুয়েটা, সিবি ও চামান এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা চালু থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে মোবাইল ডাটা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।



































