
ফাইল ছবি
নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সদ্য বিদায়ী এই মাসে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি বা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এবং চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১০ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সেসময় ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল গত ডিসেম্বরে, যার পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেই ধারাবাহিকতায় জানুয়ারির এই ৩১৭ কোটি ডলারের প্রাপ্তি অর্থনীতিতে নতুন স্বস্তি বয়ে আনছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা চলতি অর্থবছরেও বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের দেওয়া ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া বাড়তি বোনাস প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে।
এর পাশাপাশি হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেন সহজ করার কারণেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলমান অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।









































