
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রকাশক উইল লুইস পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আসে পত্রিকাটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় উইল লুইস তার পদ ছাড়ার কথা জানান। পরে ওই বার্তাটি পত্রিকাটির হোয়াইট হাউস ব্যুরো প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন।
বার্তায় লুইস বলেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্টে দুই বছরের রূপান্তরের পর এখন আমার সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় এসেছে।’
বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই পত্রিকা জানিয়েছে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জেফ ডি’অনোফ্রিও তাৎক্ষণিকভাবে সিইও ও প্রকাশকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমে লুইসের দুই বছরের দায়িত্বকাল ছিল নানা অস্থিরতায় ভরা। এ সময় একাধিক দফায় কর্মী ছাঁটাই করা হয় এবং পত্রিকার সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এসব উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। সমালোচকদের মতে, তখনকার প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুষ্ট করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ওই সিদ্ধান্তের পর ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট কয়েক লাখ গ্রাহক হারায় এবং প্রায় ১০ কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ে।
২০২৪ সালেই আরেকটি বিতর্কে জড়ান লুইস। তিনি নিজের সাবেক সহকর্মী ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট উইনেটকে শীর্ষ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে উইনেটের অতীত কিছু প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে সংগৃহীত নথি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত উইনেট সেই পদে যোগ দেননি।
গত সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন লুইস। ওই বৈঠকে কর্মীদের জানানো হয়, ইমেইলের মাধ্যমে তাদের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় শত শত সাংবাদিক চাকরি হারান। এর মধ্যে পত্রিকাটির পুরো মধ্যপ্রাচ্য কাভারেজ দল এবং ইউক্রেনের কিয়েভে কর্মরত প্রতিবেদকও রয়েছেন।
কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় লুইস বলেন, পত্রিকার দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার স্বার্থে তার নেতৃত্বে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।



































