শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

গল্পে আর আল্পনায় একুশকে জানলো পদক্ষেপের শিক্ষার্থীরা


podokhep

বরেণ্য লেখক ফরিদুর রেজা সাগরের অমর সব বই থেকে পাঠ নেয় শিক্ষার্থীরা

সঠিক ইতিহাস চর্চা এবং বাংলা ভাষার শুদ্ধ রূপ ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে মুখরিত হয়ে উঠে পদক্ষেপ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। উদ্ভাবনী শিক্ষা ও মানবিকতার আলোয় শিশুদের আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত।

​দিবসের শুরুতেই ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে স্কুল প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে তৈরি করা ‘শহীদ বেদী’। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

​এরপর শুরু হয় ভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা ও পাঠ সেশন। রক্তঝরা ফেব্রুয়ারির ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সহজভাবে তুলে ধরতে বরেণ্য লেখক ফরিদুর রেজা সাগরের অমর সব বই থেকে পাঠ নেয় শিক্ষার্থীরা। বইয়ের পাতায় বর্ণমালা আর ভাষার লড়াইয়ের গল্পগুলো শোনার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য দেশপ্রেমের আবহ তৈরি হয়।

podokhep

ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায় স্কুল প্রাঙ্গণে

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সঠিক ও শুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে পদক্ষেপ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “একুশের চেতনা মানে কেবল একটি দিন পালন করা নয় বরং সেই চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করা। আমাদের লক্ষ্য এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের শেকড়কে ভুলে যাবে না।”

​ভাইস প্রিন্সিপাল বিলকিস বানু তাঁর বক্তব্যে মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “মাতৃভাষার মাধ্যমে যে কোনো জ্ঞান অর্জন করা অনেক বেশি সহজ এবং কার্যকর। তাই আমাদের উচিত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে বাংলাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শুদ্ধভাবে ভাষাটি শেখা।”

​অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ছিল শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। রং-তুলির আঁচড়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলে নান্দনিক ছবি ও বর্ণমালার কারুকাজ। এই দেয়াল ছবি প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা আর ভাষার প্রতি ভালোবাসাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। সব মিলিয়ে একুশের এই আয়োজনটি ছিল যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি দেশপ্রেমের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প