
ফাইল ছবি
দেশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চালু হতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৪০ হাজার অভাবী পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্প হিসেবে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে এপ্রিলে ১০ হাজার, মে মাসে ১০ হাজার এবং জুনে বাকি ১০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে।
কার্ডে যে সুবিধা থাকবে: ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাও এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধান সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।
কারা পাবেন: নীতিমালা অনুযায়ী সাত শ্রেণির মানুষকে এ কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা হলেন— ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, হিজড়া সম্প্রদায়, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিক পরিবার।
কারা পাবেন না: ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার বাইরে থাকবেন ছয় শ্রেণির মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন— যেসব পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী, বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী, গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক, সরকারি চাকরিজীবী সদস্য থাকা পরিবার, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বা বড় ব্যবসার মালিক।
নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে।




































