
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল ও কষ্টদায়ক ইনজেকশন বা ইমিউনোথেরাপির পরিবর্তে এখন মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট দিয়েই ক্যান্সার নির্মূল করা সম্ভব হতে পারে। সাংহাইয়ের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের এই সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সেল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা কোষের ভেতরের প্রোটিন ধ্বংস করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা ‘এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম-সম্পর্কিত ডিগ্রেডেশন’ (ERAD) নামে পরিচিত, সেটিকে ব্যবহার করে এই নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি কোষের ভেতর ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন শনাক্ত করে ধ্বংস করে। গবেষকরা এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট রোগসৃষ্টিকারী প্রোটিনকে টার্গেট করার পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইরাডেক’ (ERADEC)।
গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ইরাডেক’ পদ্ধতিটি ক্যান্সার কোষের ‘পিডি-এল১’ নামক প্রোটিন ধ্বংস করতে সক্ষম, যা মূলত ক্যান্সার কোষকে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র অণুর এই ওষুধটি প্রচলিত অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ইনজেকশনের তুলনায় টিউমার সংকোচনে অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ছোট অণুর ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে যা সরাসরি মুখে গ্রহণ করা যাবে। এতে ক্যান্সার চিকিৎসা যেমন সহজ হবে, তেমনি কমে আসবে এর আকাশচুম্বী খরচও। শুধু ক্যান্সার নয়, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আলঝেইমার বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও সম্ভব হতে পারে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। যদিও ওষুধটি এখনো পুরোপুরি ট্যাবলেট আকারে বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত নয়, তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় এটি মানবদেহে শোষিত হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।






































