মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ-আহতদের সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর


Ehsanul Haq Milon

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বড় ঘোষণা এসেছে। তাদের সন্তানসহ আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও এক আলোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা চালু এবং হাফেজে কোরআনদের সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা দেশের মানুষের কল্যাণ ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য।

সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দ্রুত দূর করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।