বুধবার । এপ্রিল ৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৮ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি নতুন করে আলোচনায়


Trump Khurg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি নতুন করে জোরাল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি দেওয়ার পর এই আলোচনা এবার প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে। প্রথম মেয়াদে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে গোপন তৎপরতার খবর ফাঁস হয়েছিল; তবে এবার ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থীদের একাংশও অপসারণ দাবি তুলছেন।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে যুদ্ধাপরাধের হুমকি বলে আখ্যা দিয়ে বহু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তাকে অবিলম্বে অপসারণের আহ্বান জানান। ইলিনয়ের গভর্নর ও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জেবি প্রিটজকারও এই দাবিতে শামিল হন।

বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে কারণ কিছু রক্ষণশীল ও ট্রাম্পের সাবেক মিত্রও এবার ২৫তম সংশোধনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রেডিও উপস্থাপক আলেকজান্ডার জোনস, সাবেক হোয়াইট হাউস কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি, ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার ক্যান্ডাস ওয়েন্সসহ আরও অনেকে প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সরানোর কথা বলেছেন। স্কারামুচ্চি বলেন, “ট্রাম্প পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন—তাকে অবিলম্বে অপসারণ করা প্রয়োজন।”

জর্জিয়ার রিপাবলিকান সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের উসকানিমূলক পোস্ট এক্স-এ শেয়ার করে ‘২৫তম সংশোধনী’ লিখে কড়া সমালোচনা করেন। অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য তার পোস্টটি উদ্ধৃত করে পুনরায় শেয়ার করেছেন।

ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার আরেক সাবেক মিত্র টাকার কার্লসনও। তিনি শো-তে ট্রাম্পকে রূপক অর্থে ‘অ্যান্টি–ক্রাইস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। উইসকনসিনের রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনও সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প যদি বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালান, তাহলে তার প্রতি তার সমর্থন থাকবে না।

তবে আলোচনাগুলো যতই তীব্র হোক, বাস্তবে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন। এই ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হবে মূলত ট্রাম্পের মন্ত্রিসভাকেই—যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মন্ত্রী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অনুমোদন প্রয়োজন। এ মুহূর্তে এমন কোনো সম্ভাবনার ইঙ্গিত নেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাবেক মিত্রদের অংশগ্রহণে এই নতুন চাপ তাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে। প্রথম মেয়াদে যেখানে ২৫তম সংশোধনীর দাবি ছিল কেবল ডেমোক্র্যাটদের, এবার একই দাবিতে শামিল হচ্ছে ট্রাম্পপন্থী একাংশও—যা বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন