
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনার পরও কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত কোনো চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। আজ রবিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সফরকে “নিষ্ফল” উল্লেখ করে একে ইরানের জন্য “দুঃসংবাদ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত দুদিন ধরে ইসলামাবাদের কড়া নিরাপত্তায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে চলা এই আলোচনা ২১ ঘণ্টা পার করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তাবলি এবং ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে তেহরানকে জানিয়েছিল, কিন্তু ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জে ডি ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে আমরা একটি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একটি দৃঢ় ও মৌলিক অঙ্গীকার করুক। যদিও তাদের বর্তমান সক্ষমতা অনেকটাই ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো কার্যকর প্রতিশ্রুতি দেয়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি, কিন্তু সমঝোতা না হওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর। আমরা আমাদের শর্তে কোনো আপস করব না।”
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের “অযৌক্তিক ও বেআইনি” দাবিকে দায়ী করেছেন। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ইরান তাদের বৈধ অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বাস্তবসম্মত নিশ্চয়তা দিতে হবে।
চুক্তি না হলেও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ। তারা দুই পক্ষের ব্যবধান কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য কোনোভাবেই পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না।”
কোনো সমঝোতা ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধিদলের ফিরে যাওয়াকে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জে ডি ভ্যান্সের এই প্রস্থান আপাতত কূটনৈতিক পথ বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ওয়াশিংটনে ফিরে ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আলোচনার বিস্তারিত জানাবেন এবং এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











































