মঙ্গলবার । এপ্রিল ১৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে নতুন করে সংলাপে ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান


PAK

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিই পরিস্থিতিকে কিছুটা শান্ত রেখেছে।

রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পাকিস্তান এই বৈঠকের আয়োজন করে এবং দুই দেশকে এক টেবিলে আনতে সক্ষম হয়। এখন তারা আবারও আলোচনা শুরু করাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ চালু রাখতে কাজ করে যাব।

কিন্তু সমস্যা আসলে কোথায়? সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে এবং সেই সক্ষমতাও না রাখে। অন্যদিকে, ইরান বলছে তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে চায় এবং কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা ছাড় দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি- ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে। মজুত ইউরেনিয়াম সরাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পারমাণবিক ইস্যু—সমাধান হয়নি।

হরমুজ প্রণালিও আরেকটি বিরোধের জায়গা। এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যেখানে দিয়ে বিশ্বের অনেক তেল পরিবহন হয়। ইরান বর্তমানে এই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এতে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এই এলাকায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার (অবরোধ) ঘোষণা দিয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

ইরান বলছে, তারা আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি পরিবর্তন করেছে।
আলোচনায় ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। তাদের জব্দ করা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলেও পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা দুই পক্ষকে আলোচনায় বসাতে পেরেছে। এখন তাদের লক্ষ্য—এই আলোচনা আবার শুরু করা।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতির এখনও কিছু দিন বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যেই আবার আলোচনা শুরু করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং নতুন করে আলোচনা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যেভাবেই হোক, সংলাপ চালু রাখা।

ভিডিও স্টোরি >>>