শনিবার । মে ৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৯ মে ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

দেশে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ


bristi

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

শনিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (ইকে-০৫৮২) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তার মরদেহ গ্রহণের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

মরদেহ বুঝে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন বৃষ্টির স্বজনরা। তার মা ও বাবা বাকরুদ্ধ। তাদের স্বপ্ন নিমিষেই শেষ। স্বজন ও সহপাঠীরা জানান, বৃষ্টি অত্যন্ত মেধাবী ও চঞ্চল মেয়ে ছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বৃষ্টির স্বপ্ন ছিল পরিবারের ও দেশের জন্য কিছু করবেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান সবাই।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটাসের একটি ফ্লাইট বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। এই যাত্রায় ট্রানজিট হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। সেখান থেকে দুবাইয়ে ফ্লাইট পরিবর্তন করে ইকে ০৫৮২ ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে ঢাকায় আসে।

এর আগে, গেল সোমবার (৪ মে) সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা পিএইচডির দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বসন্তকালীন সমাবর্তনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধির হাতে সম্মানসূচক ডিগ্রি তুলে দেয়া হয়। এ সময় তাদের সম্মানে অনুষ্ঠানস্থলে দুটি চেয়ার ফাঁকা থাকে।

গত ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। আটদিন পর ২৪ এপ্রিল জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েকদিনের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৩০ এপ্রিল শনাক্ত হয় বৃষ্টির মরদেহ।

দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

আগামী ১৮ মে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হিলসবরো কাউন্টি আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করবেন লিঞ্জি হোজেস। তাকে সহায়তা করবেন স্কট হারমেন, জন টেরি এবং জেসিকা কোভারটিয়ার।