
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক মাসের প্রতীক্ষার অবসান হলো এক বুক হাহাকার নিয়ে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমা হামলায় নিহত ফরিদপুরের সেই লড়াকু নারী দিপালী (৩৪) ফিরেছেন তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে। তবে জীবন্ত নয়, নিথর দেহ হয়ে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর অশ্রুসিক্ত বিদায়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বৈরুত থেকে দিপালীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রলারে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মরদেহ আনা হয় চর শালেপুর ঘাটে। এরপর এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়; দিপালীর মরদেহ বহনকারী কফিনটি ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে। বাড়ির আঙিনায় কফিন নামানোর সাথে সাথেই শুরু হয় স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ।
শুক্রবার সকাল ১০টায় মুন্সিরচর ঈদগাহ মাঠে দিপালীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত কর্মকর্তারা দিপালীকে একজন ‘দেশপ্রেমিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
জানাজার আগে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে দিপালীর শোকসন্তপ্ত বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরিবারটির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আমাদের বোন দিপালী দেশের জন্য লড়তে গিয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। প্রশাসন সবসময় তাঁর পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে।” এ সময় উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইনও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অভাব-অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০১১ সালে প্রথমবার প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন দিপালী। কয়েক বছর পর ফিরে এলেও পরিবারের প্রয়োজনে ২০২৪ সালে আবারও লেবাননে যান তিনি। সেখানে একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বলি হন দিপালী। নিজের সুখের কথা চিন্তা না করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই সাহসী নারীর বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।









































