
ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমেদ/ছবি-সংগৃহীত
অবশেষে সত্যের জয় হলো। ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করা সেই নিরপরাধ ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার পর বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—কিশোরীর গর্ভের সন্তানের পিতা মক্তব শিক্ষক নন, বরং তার নিজের আপন বড় ভাই।
২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরামের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরী (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়। ইমাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও গ্রামের মাতব্বর ও বাদীর চাপে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মিথ্যা অভিযোগে এক মাস দুই দিন জেল খাটতে হয় তাকে। হারান মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মামলার খরচ জোগাতে পৈতৃক জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয় তাকে।
মামলার তদন্তে মোজাফফর আহমদের ডিএনএ নমুনার সাথে কিশোরীর সন্তানের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এতে সন্দেহের দানা বাঁধে পুলিশের মনে। কিশোরীকে পুনরায় নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই মোরশেদ (২২) তাকে বারবার ধর্ষণ করেছে। মূলত নিজের ভাইকে বাঁচাতেই পরিবারের যোগসাজশে ইমাম মোজাফফরকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে বড় ভাই মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নিজের বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। এরপর মোরশেদ, ভিকটিম ও নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। অর্থাৎ ডিএনএ বিজ্ঞানিদের মতে, ওই শিশুর জৈবিক পিতা তার আপন বড় ভাই মোরশেদ।
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন জানান, নিরপরাধ মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আপন বোনকে ধর্ষণের অপরাধে বড় ভাই মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং সে বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছে।
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও মোজাফফর আহমেদ হারিয়েছেন তার সামাজিক সম্মান ও জীবিকা। তিনি বলেন, “অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমার যে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক ক্ষতি হলো, তার দায় কে নেবে? আমি কারাভোগ এবং এই মিথ্যা মামলার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করেছে বলেই একজন নিরপরাধ মানুষ রক্ষা পেয়েছেন। তবে এই ধরণের মিথ্যা মামলা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, একজন মজলুম ইমামের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।












































