
ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার (৮ মে) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে প্রায় ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উপসাগর ত্যাগের সময় ইরান ‘উসকানিমূলক’ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করা হয়।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, পাল্টা জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি’ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এ ঘটনার পর নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে। এর আগে গত ২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন, যাতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘ছোটখাটো আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সমঝোতায় না এলে আবারও হামলার মুখে পড়তে পারে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।









































