
বিদ্যুতের দাম ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো।
যার মাঝে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রতি ইউনিটে ২৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা বাড়াতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৬১ পয়সা বাড়াতে চায় ডিপিডিসি। পাশাপাশি, ডেসকো বাড়াতে চায় ৮৬ পয়সা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব একযোগে তুলে ধরে ৬ বিতরণ সংস্থার সবকটি।
শুনানিতে আবাসিকে ধাপ পরিবর্তনের এমন কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়, যাতে আর্থিক চাপ বাড়বে কম আয়ের মানুষের ওপর।
এছাড়া বেসরকারি স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের ক্রস-সাবসিডি তুলে বাণিজ্যিক শ্রেণীর আওতায় নেয়ার প্রস্তাব দেয় কিছু বিতরণ কোম্পানি।
শুনানিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করে অংশীজনরা বলেন, গ্রাহকের পকেট কাটার কৌশল থেকে বেরিয়ে, ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজতে হবে বিতরণ কোম্পনিগুলোকে।
গত বুধবার (২০ মে) প্রথম দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিট ১৯ পয়সা বা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পাওয়ার গ্রিড।
এদিকে গণশুনানিতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি দেড় টাকা বা ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি।
চলতি অর্থবছরে ৬২ হাজার কোটি টাকা ও আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ঘাটতির কথা তুলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘দাম না বাড়ালে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বিদ্যুৎ খাত।’
তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ অংশীজনরা।
তারা বলেন, লুটপাটের দায় চাপানো হচ্ছে গ্রাহকের কাঁধে। তাই উল্টো দাম কমাতে শুনানি করার দাবি তুলেন অংশীজনরা।
শুনানিতে অংশীজনরা বলেন, নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে বহুমুখী। উৎপাদন খাতেও পিছিয়ে পড়বেন উদ্যোক্তারা।










































