cosmetics-ad

ইতিহাস গড়ে শিরোপা জিতলো বার্সা

barsa

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জুভেন্টাসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ট্রেবল জিতেছে কাতালানরা। এ যেনতেন জয় নয়, ইতিহাস গড়া জয়। সপ্তম দল হিসেবে ট্রেবল জিতলেও একমাত্র দল হিসেবে এ নিয়ে দুবার ট্রেবল জয়ের রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। শোকেসে তুলেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের মহামূল্যবান পঞ্চম শিরোপা।

এমন জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তো বার্সা শিবির জার্মানিতে এসেছে। শনিবার দিবাগত রাতে বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটাই নির্ধারণ করে দেয় ফাইনালের ভাগ্য। ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৪ মিনিট। মেসির কাছ থেকে বল পান জর্ডি আলবা। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বক্সের বাঁ কর্নারে থাকা নেইমারের উদ্দেশে। নেইমার বলটি ফ্লিক করে দেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। ইনিয়েস্তা বলটি স্লাইড করে দেন পেনাল্টি স্পটে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ তুর্কি ইভান রাকেটিককে। সুযোগ বুঝে দারুণ এক সাইড শটে বল জালে জড়িয়ে দেন রাকেটিক (১-০)। তার এই গোলের সুবাদে স্বপ্নের মতো সূচনা পায় বার্সা।

প্রথমেই এগিয়ে যাওয়ায় কাতালানদের টিম স্পিরিট বেড়ে যায়। একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে, একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে জুভেন্টাসের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে মেসি-সুয়ারেজ-নেইমাররা। তবে আক্রমণের অনুপাতে বার্সা ততটা সাফল্য পায়নি। প্রথমার্ধে জুভেন্টাসও গুটিকয়েক আক্রমণ শানায়। কোনোটিই নিশানা ভেদ করতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় মেসি নেইমাররা।

বিরতির পর দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে তুরিনের ওল্ড লেডিরা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে কার্লোস তেভেজ শট নেন। সেটা রুখে দেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক স্টেগেন। কিন্তু ঠিকমতো ধরতে পারেননি। বল চলে আসে আলভারো মোরাতার কাছে। মোরাতা বল জালে জড়াতে ভুল করেননি (১-১)।

৬৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে যান লিওনেল মেসি। গোলে শট নেন। কিন্তু বুফন সেটা ফিরিয়ে দেন। বল চলে যায় সুয়ারেজের কাছে। বাতাসে থাকা বলে সুয়ারেজ ডান পায়ে শট নেন। বুফনের নাগালের বেশ বাইরে দিয়ে বল জালে আশ্রয় নেয় (২-১)। এর অল্প কিছুক্ষণ পর নেইমারও একটি গোল করে বসেন। কিন্তু বল জালে জড়ানোর আগে নেইমারের হাতে লাগে। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। তবে ম্যাচের ইনজুরি টাইমে দারুণ একটি গোল করেন নেইমার। এই গোলটি যেনতেন গোল ছিল না। স্বপ্নের ফাইনালে নেইমারের প্রত্যাশিত গোল।

একদিকে আনন্দের বন্যা, বুনো উল্লাস। অন্যদিকে ব্যর্থতার ঘনকালো মেঘ। নিঃশ্বাস দূরত্বে থাকা স্বপ্নের শিরোপাটা না পাওয়ার চাপা যন্ত্রণা। যেটা থেকে মুক্তি পেতেই পিরলো-মোরাতারা চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন।