cosmetics-ad

আওয়ামী লীগই হিন্দুদের নির্যাতন, তাদের জমি দখল করে : খালেদা

Khalada-modi

বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিশেষ করে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের হাতে কিভাবেনির্যাতিত হয়, তা শুনলে আপনি আশ্চর্য্য হবেন। আওয়ামী লীগের হাতেই তাদের(হিন্দুদের) ঘর-বাড়ি লুট হয়। জমি দখল করা হয়। আর আমাদের বলা হয় হিন্দুবিরোধী। আমরা হিন্দুদের সঙ্গে আছি বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

ভারতের দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন।

গতকাল শনিবার খালেদা জিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। সেখানে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরের সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া।

ভারতীয় সাংবাদিকের নেয়া খালেদার সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হল:

প্রশ্ন: আপনার কাছে সরাসরি একটি প্রশ্ন করতে চাই। আপনি যেভাবে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রী মোদীর সঙ্গে আপনার বৈঠক যাতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালিয়েছে। তাহলে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশে আসলেন তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন তার সঙ্গে দেখা করবেন না…….

খালেদা জিয়া: প্রশ্নটি করায় আপনাকে ধন্যবাদ। হ্যাঁ, এটা একটা ঘটনা যে, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের সময়ে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তখন একটি হরতালের ডাক দিয়েছিল জামায়াত। ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধে তাদের শীর্ষ তিন নেতার দণ্ডের  প্রতিবাদে সারা দেশে হরতাল ডেকেছিল তারা।

তখন আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকটি বাতিল করেছিলাম, প্রেসিডেন্টের(প্রণব মুখার্জী) সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমার ওপর হামলা হতে পারে, এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল। প্রকৃতভাবে বলতে গেলে, আমার প্রাণনাশের হুমকি ছিল। আপনাদের মনে থাকতে পারে, তার হোটেলের খুব কাছে-যেখান দিয়ে আমাকে যেতে হত, সেদিন সেখানে একটি পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে জানান খালেদা জিয়া।

প্রশ্ন: কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আপনাদের জোটসঙ্গী। তারা কেন আপনার ওপর হামলা করবে?

খালেদা জিয়া: ঠিকই, ঘটনাটি এখানেই। আমার কোনো কিছু ঘটলে, তার পুরো দোষ দেওয়া হত জামায়াতকে। এবং এটাই ছিল আমাদের বিরোধীদের গেইম প্ল্যান, যা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম এবং বৈঠকটি বাতিল করেছিলাম। আজকে আমি আপনার সঙ্গে সত্যি কথাটা শেয়ার করলাম।

প্রশ্ন: কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আপনাদের জোটসঙ্গী। তাদেরকে ধর্মীয় কট্টরপন্থি হিসেবে দেখা হয় এবং আচরণে তারা ভারতের প্রতি ইতিবাচক নয়…

খালেদা জিয়া : জামায়াত আমাদের জোটসঙ্গী এবং শুধু এটাই। জোটে তাদের বিএনপির কথা শুনতে হয়। দেখেন আমরা যেহেতু এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছি, আমাকে বলতে দিন- আপনি শুনে আশ্চর্য্য হবেন যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিশেষ করে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের হাতে কিভাবে নির্যাতিত হয়। আওয়ামী লীগের হাতেই তাদের(হিন্দুদের) ঘর-বাড়ি লুট হয়, জমি দখল করা হয়…এবং আমাদের বলা হয় হিন্দুবিরোধী? আমরা হিন্দুদের সঙ্গে আছি এবং দেশের সব নাগরিকের কল্যাণ চাই।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে, আমাদের নেতাদের মেরে ফেলা হচ্ছে, প্রায় ২০ হাজার নেতা গুম হয়েছেন এবং যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারাই চিহ্নিত হচ্ছে এবং তার ওপর হামলা করা হচ্ছে। এখানে জরুরি অবস্থার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি যদি এ বিষয়ে কথা বলি, তাহলে আমাকে পাকিস্তানি এজেন্ট বলা হয়। আমার স্বামী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। যখন তিনি পাকিস্তানি আর্মি থেকে বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন তিনি একজন মেজর ছিলেন, এটা কি আমরা ভুলে গেছি?

প্রশ্ন: কিন্তু বেগম জিয়া, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি আওয়ামী লীগকে অদৃশ্যভাবে ‘ওয়াকওভার’ দিয়েছেন। এবং আজকে আপনি বলছেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে…

খালেদা জিয়া : একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ ইতিপূর্বে আন্দোলন করেছিল। আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম এবং অতীতে সেভাবে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসল তখন নিজেদের স্বার্থে তারা সংবিধান সংশোধন করল। প্রভিশনটি বাদ দেওয়া হল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, ভোট জালিয়াতির জন্য তারা পুরো সরকার ব্যবস্থা এবং পুলিশকে ব্যবহার করবে বলে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। দেখেন সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কী হল। ভোটাররা যখন ভোটকেন্দ্রে গেল, তখন তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হল, যেহেতু আগেই তাদের ভোট কাস্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের সময় একজন পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের রেকর্ডই প্রমাণ করে দেয় ভোটে পুলিশ কীভাবে প্রভাব খাটিয়েছে। এ পরিস্থিতি আমরা কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করতে পারি?

এখন আমরা যে ঘরে বসে আছি, এখানে আমাকে ৯২ দিন বন্দী করে রাখা হয়েছিল। তারা যোগাযোগের সবগুলো লাইন বিছিন্ন করে দিয়েছিল। পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং এমনকি এক সময় পানির সংযোগও বন্ধ করে দিয়েছিল। এটাই আসল ঘটনা।

প্রশ্ন: তাহলে সামনে এগোনোর পথ কী, বেগম জিয়া?

খালেদা জিয়া : আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং এটাই জনগণের কথা। যদি জনগণের কথা শুনতে চাই, এটাই একমাত্র পথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বাংলাদেশের বিষয়গুলো দেখতে হবে।