cosmetics-ad

দেশে ফিরলেন নায়েক রাজ্জাক

Abdul-Razakমিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আট দিন আটক থাকার পর দেশে ফিরেছেন বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। দেশে ফিরে নায়েক আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তিনি সুস্থ্ আছেন।

এর আগে মিয়ানমারের মংডুতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পতাকা বৈঠক শেষে রাজ্জাককে বিজিবি কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। কক্সবাজার বিজিবির উপ অধিনায়ক জানান, বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হস্তান্তরের পরপরই রাজ্জাককে পরীক্ষা করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা মেডিকেল অফিসার মেজর মো. শাহ আলম। পরে তারা স্পিড বোটে করে দেশের পথে রওনা হন।

এদিকে দেশে ফিরে বৃষ্টির মধ্যে বোট থেকে নেমে রাজ্জাককে পায়ে হেঁটে ঘাটে উঠে আসেন। এসময় বাহিনীর পোশাকেই ছিলেন তিনি। মুখে ছিল দাড়ি এবং ঠোঁটে কাটা দাগ। বিজিপি নির্যাতন করেছে কি না জানতে চাইলে রাজ্জাক চুপ করে থাকেন। ঠোঁটের ক্ষতের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কেটে গেছে।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদের কাছে রাজ্জাককে হস্তান্তর করেন ২ নম্বর বিজিপির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল থি হান।

পিলখানা সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসীন আলী সাংবাদিকদের জানান, নায়েক রাজ্জাককে হেলিকপ্টারে করে এনে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে রাজ্জাকের মুক্তির খবরে নাটোরে তার গ্রামের বাড়িতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার স্ত্রী আসমা বেগম স্বামীর কোলে তাদের তৃতীয় সন্তানকে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। রাজ্জাক আটক হওয়ার চার দিন পর তার জন্ম হয়।

প্রসঙ্গত, ১৭ জুন ভোরে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল নায়েক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল। তারা বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির সদস্যরা একটি ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বিজিপির সদস্যদের বহনকারী ট্রলারটি বিজিবির টহল নৌযানের কাছে এসে থামে।

বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয়। বিজিবির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিজিপির ট্রলার রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত মিয়ানমারের মংডুতে ২ নম্বর বিজিপি ব্রাঞ্চের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের পতাকা বৈঠক হয়। এর আগে রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনতে সকালে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মংডু যান।