sentbe-top

ফেসবুকে ফরাসী পতাকার জলছাপ নিয়ে নানা দেশে বিতর্ক

faceboo-watermarkপ্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের জন্য প্রোফাইল ছবিতে ফরাসী পতাকার আদলে লাল-সাদা-নীল জলছাপ বসিয়ে সংহতি প্রকাশের যে সুযোগ চালু করেছে – অনেকেই তা গ্রহণ করেছেন ঠিকই, কিন্তু এর পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কও শুরু হয়ে গেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতোই বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও অনেকেই এই ‘ফ্রেঞ্চ ফ্ল্যাগ ফিল্টার’ লাগিয়েছেন তাদের প্রোফাইল ছবিতে। কিন্তু এ নিয়ে বিতর্ক এবং ভিন্নমত তৈরি হতেও বেশি সময় লাগেনি।

অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, প্যারিসে হামলায় নিহতদের জন্য ফেসবুক যা করলো, তা তারা বিশ্বের অন্য কোন সন্ত্রাসী হামলা বা সংঘাতে প্রাণহানির পর করে নি কেন?

এখানে কি কোন পক্ষপাত দেখানো হয়েছে? – এমন প্রশ্ন তোলেন অনেকে। অন্য অনেকে বলছেন, তারা এতে দোষের কিছু দেখছেন না।

ফেসবুকে অনেকের প্রোফাইলেই দেখা যাচ্ছে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও বাদানুবাদ শুরু হয়ে গেছে। সমালোচনার মুখে অনেকে এই জলছাপ তুলে নিয়েছেন, এমনটাও দেখা গেছে।

অনেকে মন্তব্যের মূল বক্তব্য হচ্ছে এই রকম: ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, কেনিয়া বা অন্য কোনো দেশে কোন আক্রমণে যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হন – তখন তো ফেসবুক এমন জলছাপ চালু করে নি। এর কারণ কি?

এমনি একটি বিতর্কের থ্রেড-এ দেখা গেল, একজন মন্তব্য করেছেন: “প্যারিসের প্রতি পূর্ণ সমবেদনা রেখেই বলছি একপেশে কেন আমাদের আচরণ? লেবাননে ওই দিনই ৪০ জনের মত মারা গেছে, প্রায় একই সাথে দুটি ঘটনা ঘটেছে। তাহলে সমস্ত সমবেদনা প্যারিসবাসীর জন্য ক্যান? প্যারিস সুন্দর শহর এই জন্য? মৃতের সংখ্যা বেশি এই জন্য? তারা ইউরোপবাসী বলে? নাকি ইউরোপিয়ানরা যা খাওয়ায় তাই আমরা খাই বলে?

franchএর বিপরীত মত প্রকাশ করে আরেকজন লেখেন – “একটা অপশন চালু করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। যার ইচ্ছা হবে সে দিবে ইচ্ছা না হলে দিবে না। বিষয়টা সম্পূর্ণ ব্যবহাকারীর নিজের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া। কাউকে জোর করে (ফেসবুক) কর্তৃপক্ষ এই জলছাপ দিচ্ছে না। তবুও আমাদের দেশপ্রেমিক ভাইয়েরা এ ব্যাপারে মারাত্মক রিয়্যাকশন করছে।”

পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও একই রকম প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এ নিয়ে একটি রিপোর্টও প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, লেবাননের একজন ডাক্তার এলি ফারেস তার ব্লগে লিখেছেন, আমার দেশে যখন আক্রমণে লোক নিহত হলো, তখন পৃথিবী জুড়ে শোক পালন হয় নি, নানা দেশের নামী ভবনগুলো আমার পতাকার রঙে সাজানো হয়নি।”

বলা হয় লেবাননের অনেক বিশ্লেষকই এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে এর অর্থ হতে পারে দুটো। এক, আরবদের জীবন অত গুরুত্বপূর্ণ নয়, অথবা দুই, এটা এমন একটি অঞ্চল যেখানে এরকম মৃত্যু নিতান্তই প্রতিদিনির স্বাভাবিক ঘটনা।

আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য কোন দেশে আক্রমণের পর এধরণের জলছাপ কেন ছাড়া হয়নি, এ প্রশ্ন নিয়ে তাদের প্রতিবেদক ফেসবুকের সাথে যোগাযোগ করেন, তবে ‘রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন জবাব আসে নি’।

সুত্রঃ বিবিসি

sentbe-top