sentbe-top

এসি মিস্ত্রি থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মালিক

georgeভারতের কেরালার ছেলে জর্জ ভি. নেরিয়াপারাম্বিল একজন মেকানিক ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বিপুল অর্থের মালিক। বর্তমানে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ২২ টি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক!

বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জর্জ ১৯৯৭ সালে মিস্ত্রির কাজ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। মরুভূমির ওই অঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবসা যে বেশ লাভজনক হবে তা তিনি খুব দ্রুতই বুঝে যান। তাই সুযোগ বুঝে এই ব্যবসাতেই নামার পরিকল্পনা করেন এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তার নিজের প্রতিষ্ঠান।

জর্জের বয়স যখন ১১ বছর, তখন তিনি তাঁর বাবাকে ফসল বিক্রির কাজে সাহায্য করতেন। অল্প বয়স থেকেই ব্যবসা কায়দা যেন তিনি বেশ ভালোই বুঝতেন। সে বয়সেই তুলার ফেলনা বীজ কাজে লাগানোর বুদ্ধি তাঁর মাথায় খেলে।

তবে বুর্জ খলিফায় এতোগুলো অ্যাপার্টমেন্ট থাকার পেছনে একটি ছোট মজার কাহিনী রয়েছে। জর্জ বলেন, ‘একদিন এই বুর্জ খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে আমার এক আত্মীয় ঠাট্টা করে বলেছিলেন, এইটা হলো বুর্জ খলিফা। তুমি কোনদিনও এই ভবনে প্রবেশ করতে পারবে না।’ খোঁচাটা খুব গায়ে লেগেছিল জর্জের। সেইদিন থেকে একটা জেদ কাজ করেছিল তাঁর ভেতরে। আর সেই জেদই তাঁকে মালিক করেছে গগনচুম্বী এই ভবনে ২২ টি অ্যাপার্টমেন্টের।

তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে সাংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেখলাম বুর্জ খলিফার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া হবে। ওটা দেখার সাথে সাথেই আমি যোগাযোগ করি। সেদিনই অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেই এবং পরদিন থেকে সেখানে থাকা শুরু করি।’

বুর্জ খলিফা মোট ৯০০ টির মধ্যে ২২টি অ্যাপার্টমেন্টই জর্জ নেরিয়াপারাম্বিলের। কিন্তু তিনি চান আরও অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে। হয়তো উনি একদিন পুরো ভবনটির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে শুধু নিজের জন্য নয়, নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণের কথাও ভাবেন তিনি। কেরালার ত্রিবান্দ্রম থেকে কাসারাকদ পর্যন্ত একটি খাল তৈরি করতে চান। তিনি জানান, এই খালে পানি আসলে সেই পানি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা যাবে, সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। খালে মাছ চাষসহ প্রতিটি অংশ কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

sentbe-top