sentbe-top

কোরিয়ার সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ছুসক’

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩:

কোরিয়ার সবেচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি ছুসক। কোরিয়ার কর্মব্যস্ত মানুষদেরকে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর বড় একটা সুযোগ তৈরী করে দেয় ছুসক। ছুসকের আসতে আর বেশিদিন নেই। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুসক এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচদিন বন্ধ পাচ্ছে কোরিয়ার জনগণ। ছুসক সম্পর্কে লিখেছেন মো. মহিবুল্লাহ।

ছুসক, প্রকৃতির বদান্যতার প্রতি কোরিয়ানদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপক অনুষ্ঠান। এটি উদযাপন করা হয়ে থাকে বছরের এমন একটি সময়ে যখন কোরিয়ায় ধানক্ষেতসহ প্রায় প্রতিটা ফসলি জমি শস্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, সবচেয়ে অসচ্ছল কৃষকটির ঘরেও ভালো খাবার তৈরি হয়। এ সময় কোরিয়ানরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং উৎপাদিত ফসলের কিছু অংশ মৃত আত্মার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

811650_1_120একটা সময় ছুসকই ছিল কোরিয়ানদের কাছে ছুটি কাটানোর জন্য সবচেয়ে প্রিয় উপলক্ষ। তাঁরা পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ বেদী স্থাপন করতেন, বন্ধু-স্বজনদের সাথে নিয়ে ভোজ উৎসবে মেতে উঠতেন।

কোরিয়ায় একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, “বেশীও না, কমও না। একদম হাঙ্গাউইয়ের (한가위-ছুসকের আরেকটি নাম) মতো হও।” এমনটা বলার কারন হল, ছুসক বছরের সবচেয়ে আরামদায়ক সময়টাতেই উদযাপিত হয়। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় মৃদুমন্দ বাতাস আর মিষ্টি রোদের সাথে এ সময় থাকে তরতাজা ফসলের পর্যাপ্ত মজুদ।

ছুসক উদযাপনে আগের সেই আড়ম্বর এখন আর নেই। ছুসকের অন্যতম অনুষঙ্গ পূর্বপুরুষদের স্মরণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনও সীমিত হয়ে এসেছে। নেই আগের মতো খাওয়াদাওয়ার ধুম। তবে একটা ব্যাপার এখনও প্রায় একই রকম রয়ে গেছে, ছুসক উপলক্ষে কোরিয়ানরা এখনও দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে পরিবার-পরিজনদের সাথে মিলিত হয়ে মৃত স্বজনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।

sentbe-top