
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৩ বার
সেরা সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল (২০০২)
প্রথম অংশগ্রহণ: ২০০২ (দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান)
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা: পাপা বুবা দিয়প (৩ গোল)
সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছেন: কালিদু কুলিবালি, ইউসুফ সাবালি, ইসমাইলা সার (৭ ম্যাচ)
নজরে রাখার খেলোয়াড়: সাদিও মানে
ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৪
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেনেগালের নাম উচ্চারিত হলেই মনে পড়ে ২০০২ সালের সেই অবিশ্বাস্য কীর্তির কথা। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশটি।
সেই আসরে ডেনমার্ক ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জনের পর শেষ ষোলোতে সুইডেনকে হারায় সেনেগাল। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়।
প্রায় ২৪ বছর পর, টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’। অনেকের মতে, বর্তমানে আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল সেনেগাল। তাই এবারও তারা হতে পারে টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিল সেনেগাল। এছাড়া গত জুনে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়ে তারা।
সাম্প্রতিক আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে নাটকীয় ঘটনা ঘটলেও সেনেগালের প্রতিভা ও দলীয় শক্তি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
দল ঘোষণার সময় কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ‘আমাদের বড় স্বপ্ন আছে। আমরা অসাধারণ কিছু অর্জন করতে চাই।’ তিনি ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, যেখান থেকে বিশ্বকাপের আগে দুইজনকে বাদ দিতে হবে।
মানের শেষ বিশ্বকাপ মিশন
সেনেগালের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে (৩৪) জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন। ফলে এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।
বয়সের কারণে আগের মতো গতি না থাকলেও মানের স্পর্শ, দৃষ্টি, নেতৃত্বগুণ এবং অভিজ্ঞতা এখনও বিশ্বমানের।
গত জানুয়ারিতে আফকনে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। মিশরের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় সেনেগাল।
সৌদি ক্লাব আল-নাসরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলছেন মানে। গত মৌসুমে তিনি ১০ গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করে দলকে শিরোপা জিততে সহায়তা করেছেন।
ইনজুরির কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন মানে। তাই শেষ বিশ্বকাপে স্মরণীয় কিছু করে বিদায় নিতে তিনি মরিয়া। সেনেগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মানে ১২৬ ম্যাচে করেছেন ৫৩ গোল। বিশ্বকাপেও সেই সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে তার।
কোচ থিয়াওকে ঘিরে প্রশ্ন
২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের কোচ আলিউ সিসের স্থলাভিষিক্ত হন পাপে থিয়াও। তার অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকে সেনেগাল, ইংল্যান্ডকে হারায় এবং আফকন শিরোপাও জেতে।
তবে আফকন ফাইনালে মরক্কোকে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি দেওয়া হলে থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
যদিও ব্রাহিম দিয়াজ সেই পেনাল্টি মিস করেন এবং পরে সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে জয় পায়, কিন্তু ঘটনাটির জেরে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) তাদের শিরোপা কেড়ে নেয় বলে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিশ্বকাপে কঠিন পরিস্থিতিতে থিয়াও আরও সংযত সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটাই আশা করছে সেনেগাল।
তারকায় ঠাসা শক্তিশালী দল
সেনেগালের অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলেন।
স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন শারীরিক শক্তি ও গতির জন্য পরিচিত। যদিও তার ফিনিশিং নিয়ে মাঝে মাঝে প্রশ্ন ওঠে, তবুও গোলের সুযোগ তৈরি করতে তিনি দক্ষ।
উইঙ্গার ইসমাইলা সার দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
মিডফিল্ডে পাপে মাতার সার, লামিন কামারা, ইদ্রিসা গানা গেই ও হাবিব দিয়ারা সেনেগালকে বাড়তি শক্তি দিয়েছেন।
এভারটনের ইলিমান নিয়ায়ে, সুন্দরল্যান্ডের উদীয়মান তারকা হাবিব দিয়ারা এবং বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ মিডফিল্ডার বারা সাপোকো নিয়ায়ে ভবিষ্যতের বড় আশা।
রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ কালিদু কুলিবালি এখনও দলের অন্যতম ভরসা।
পিএসজির তরুণ ইব্রাহিম এমবায়েও প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেতে পারেন।
তবে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বয়স বেড়ে যাওয়া এবং আক্রমণভাগের কিছুটা অনিয়মিত পারফরম্যান্স সেনেগালের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কঠিন গ্রুপে সেনেগাল
গ্রুপ ‘আই’-এ সেনেগালের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, নরওয়ে ও ইরাক।
প্রথম ম্যাচেই ২০০২ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইবে সেনেগাল, যখন তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ডকে সামলানো। শেষ ম্যাচে ইরাককে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ মনে করা হলেও সেনেগাল কোনো ঝুঁকি নিতে চাইবে না।
সেনেগালের বিশ্বকাপ ২০২৬ সূচি
১৬ জুন: ফ্রান্স বনাম সেনেগাল (নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র)
২২ জুন: নরওয়ে বনাম সেনেগাল (নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র)
২৬ জুন: সেনেগাল বনাম ইরাক (টরন্টো, কানাডা)
সেনেগালের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: এদুয়ার মেন্ডি (আল-আহলি), মোরি দিয়াও (লে আভর), ইয়েভান দিয়ুফ (নিস)
ডিফেন্ডার: কালিদু কুলিবালি (আল-হিলাল), আবদুলায়ে সেক (মাকাবি হাইফা), মুসা নিয়াখাতে (লিঁও), ইসমাইল জ্যাকবস (গালাতাসারাই), মামাদু সার (স্ট্রাসবুর্গ), আঁতোয়ান মেন্ডি (নিস), ইলায় কামারা (আন্ডারলেখট), এল হাজি মালিক দিয়ুফ (ওয়েস্ট হ্যাম), ক্রেপিন দিয়াত্তা (মোনাকো), মুস্তাফা এমবো (প্যারিস এফসি)
মিডফিল্ডার: ইদ্রিসা গানা গেই (এভারটন), পাপে মাতার সার (টটেনহ্যাম), পাথে সিস (রায়ো ভায়েকানো), পাপে গেই (ভিয়ারিয়াল), লামিন কামারা (মোনাকো), হাবিব দিয়ারা (সান্ডারল্যান্ড), বারা সাপোকো নিয়ায়ে (বায়ার্ন মিউনিখ)
ফরোয়ার্ড: সাদিও মানে (আল-নাসর), বাম্বা দিয়েং (লোরিয়াঁ), নিকোলাস জ্যাকসন (বায়ার্ন মিউনিখ), ইলিমান নিয়ায়ে (এভারটন), ইসমাইলা সার (ক্রিস্টাল প্যালেস), শেরিফ নিয়ায়ে (সামসুনস্পোর), শেখ সাবালি (মেৎজ), ইব্রাহিম এমবায়ে (পিএসজি), আসানে দিয়াও (কোমো)










































