ভুয়া খবরে আসল পত্রিকা!

fake-newsভুয়া খবর বা ফেক নিউজের ব্যাপারে আমাদের সবারই কম-বেশি ধারণা আছে৷ কিন্তু এবারের বিষয়টি বেশ অভিনব৷ একটি পত্রিকার মাস্টহেড ব্যবহার করে, একই মেকআপ ব্যবহার করে সেই পত্রিকার নামে একটি ভুয়া খবর প্রচার৷ আর এটা হয়েছে বাংলাদেশে৷

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অষ্ট্রেলিয়া যান ১৩ অক্টোবর রাতে৷ আর পরিস্থিতির কারণেই পরের দিন তাঁর এই বিদেশ যাওয়ার খবর সব দৈনিক পত্রিকা গুরুত্ব দিয়ে ছাপে৷ ওই দিন বাংলাদেশের পাঠক প্রিয় দৈনিক প্রথম আলোর এই বিষয়ে সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘‘‘আমি বিব্রত’, বিদেশ যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি” আর এটা প্রধান শিরোনাম ছিল না৷ প্রথম পৃষ্ঠার অষ্টম কলামের শীর্ষ খবরটি ছাপা হয়৷

কিন্তু প্রথম আলো’র নামে যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তার শিরোনাম হলো, ‘‘সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগ৷” প্রথম আলোর মাস্টহেড ব্যবহার করে কম্পিউটারে মেকআপ করে প্রতারকরা ওই শিরোনাম প্রধান শিরোনাম করে তার স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়৷”

এনিয়ে ‘প্রথম আলো’ একটি প্রতিবেদনও ছাপে, যার শিরোনাম ‘এটা ভুয়া খবর’৷ সেখানে ভুয়া এবং সঠিক পত্রিকার ছবিও দেয়া হয়৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘প্রথম আলোর ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর তারিখের ছাপা পত্রিকার প্রথম পাতার অনুরূপ একটি ভুয়া পাতার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ‘সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগ’ ও ‘প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি!’ শিরোনামে দুটি খবর সেখানে আছে৷ এর পাশে ‘ক্ষমতা দেখাল সরকার’ শিরোনামে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের নামে একটি লেখা আছে৷ বাস্তবে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় এ ধরনের কোনো খবর বা ছবি প্রকাশিত হয়নি, এটা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷”

একই দিনে বাংলাদেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর ক্ষেত্রেও একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে৷ পত্রিকাটির মাস্টহেড এবং গেটআপ মেকআপ-এর হবহু নকল করে প্রতারকরা প্রধান শিরোনাম করে ‘চিফ জাস্টিস এক্সপোজেস দ্য গভর্নমেন্ট’, এ ডিজগ্রেস টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদনও দেখা যায় সেখানে৷ অথচ ওই দিন ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আই অ্যাম নট সিক’৷ ডেইলি স্টারও এই প্রতারণা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ এবং পাশাপাশি আসল ও ভুয়া পত্রিকার ছবি ছেপেছে৷

পত্রিকাটির উপ সম্পাদক শাহরিয়ার খান বলেন, ‘‘এবার ভুয়া নিউজ ছড়াতে নতুন এবং অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে৷ ডেইলি স্টার, প্রথম আলো বা সমকালের মতো পত্রিকার প্রিন্ট এডিশনের অনুরূপ ডিজাইনে ভুয়া নিউজ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে৷ কিন্তু এই কাজটি তেমন কার্যকর হয়নি৷ কারণ, এই ধরণের পত্রিকার যারা পাঠক, তারা এই ধরণের ভুয়া নিউজ বিশ্বাস করেন না৷ এবং তারা চেক করতে পারেন৷ ফলে যারা এটা করেছেন, তাদের আমার কাছে মনে হয়েছে স্টুপিড৷”

ডেইলি স্টার এই ঘটনায় থানায় মামলা করেছে৷ শাহরিয়ার খান জানান, ‘‘আমরা আশা করি কারা এই কাজ করেছে তা তদন্তে জানা যাবে৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া বলেন, ‘‘প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের নাম ও মাস্টহেড ব্যবহার করে এবার যে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে এটা একটা ভয়ংকর প্রবণতা৷ এটা ফৌজদারি অপরাধ৷ এই ধরণের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এসব ফেক নিউজ বা গুজব ছাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷”

আর ডেইলি স্টারের শাহরিয়ার খান বলেন, ‘‘এবার নতুন কৌশলে ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে সুবিধা করতে না পারলেও এটা একটা সিগন্যাল৷ যারা এটা করেন, তারা নতুন নতুন কৌশল খোঁজেন৷”

সৌজন্যে: ডয়চে ভেলে