রাজধানীতে ‘স্বঘোষিত ইমাম মাহাদী’ গ্রেফতার

mehediস্বঘোষিত খলিফা ও ইমাম মাহাদী দাবিদার আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার লিফলেট এবং সেগুলো তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতার আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৪৫) ১৯৮৬ সালে ফেনী আলীয়া মাদরাসা থেকে আলিম এবং মাদরাসা-ই-আলীয়া, ঢাকা থেকে ফাযিল ও কামিল পাস করেন।

১৯৮৮-১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৯৩ সালে বিএ অনার্স এবং ১৯৯৫ সালে একই বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি নজরুল সাহিত্যে ইসলামী ভাবধারা এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিলের ১ম পর্ব শেষ করেন।

আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন নিজেকে মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত বিশেষ দূত, অনুগত দাস, ইসলামের খলিফা এবং ইমাম মাহাদী হিসেবে দাবি করে দীর্ঘদিন যাবত অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ৩০-৪০ জনের একটি অনুসারী দল তৈরি করেছেন তিনি। তার নিজ বাসায় অনুসারীদের উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী বিষয়ে দীক্ষা দিতেন বলে জানা যায়। এই ধরনের বৈঠক বা আলোচনায় প্রায়ই ১০-১৫ জন অনুসারী উপস্থিত থাকতেন।

অনুসারীদের মধ্যে তার নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে সংস্থার নামে-বেনামে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী অসংখ্য উগ্রবাদী মতামত সম্বলিত লিফলেট প্রেরণ করে আসছিল।

আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ধর্মকে পুঁজি করে রাষ্ট্রবিরোধী উগ্রবাদের বীজ বপন করে চলছিল, যা যেকোনো মুহূর্তে সামাজিক ও ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা এবং নাশকতা তৈরির সহায়ক। তিনি উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকেও লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালাতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মদিনা সনদের ন্যায় ঢাকা সনদও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা যায়।

বর্তমানে কোরআনের বাংলা অনুবাদসমূহ সঠিক নয় দাবি করে নিজে পবিত্র কোরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদের খসড়া তৈরির কাজও করছিলেন। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে। জাগো নিউজ