স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল ভারতের আদালত

volitionনিরাময় অযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে ভারতীয় আদালত। ‘কমনকজ’ নামে দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।

নাগরিকরা চাইলে ভবিষ্যতে লাইভ সাপোর্টে বেঁচে থাকতে চান না- মর্মে উইল করার অনুমতি দেয়া হয়েছে রায়ে। আদালত একে ‘লিভিং উইল’ বলে অভিহিত করেছেন। কে বা কারা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি নিতে পারবেন সে বিষয়েও আদালত থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘সম্মানজনক মৃত্যু জীবনের অধিকার’।

৪২ বছর কোমায় আচ্ছন্ন থাকার পর ২০১৫ সালে অরুণা শানবাগে নামে এক নার্সের মৃত্যু হয়। কোমায় থাকা অবস্থায় তার সাংবাদিক বন্ধু পিঙ্কি বিরানি অরুণার স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে একটি মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থা ‘কমনকজের’ তরফে একটি আবেদনের ভিত্তিতে এ মামলা শুরু হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এ রায় দিলেন শীর্ষ আদালত। ‘কমনকজের’ পক্ষে মামলায় লড়াই করেন প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্তভূষণ।

স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্দেশিকা জারি থাকবে, এমনটাই জানিয়েছেন ভারতীয় শীর্ষ আদালত। রায় দিতে গিয়ে আদালত জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি রোগী এমন কোমায় চলে যান, যেটি থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে তাকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হবে না। এ কথাটি তার ইচ্ছাপত্রে লিখে যেতে পারবেন তিনি। ভারতীয় শীর্ষ আদালত জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মামলা ও ঘটনা আদালত খতিয়ে দেখেছেন। তারপরই এ সংক্রান্ত বেশ কিছু রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কোনো রোগীর ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানানো হলে প্রথমে সে বিষয়ে পরিবার রোগীর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টে আবেদন জানাতে পারবেন। একেবারেই প্রাণে বাঁচার কোনো সম্ভাবনা নেই যে রোগীদের, তাদের ক্ষেত্রেই আদালতের তৈরি করা মেডিকেল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। যদিও আগে কেন্দ্র এই মেডিকেল বোর্ড তৈরির কথা বলেছিল, কিন্তু তা এখনও হয়নি। এছাড়াও স্বেচ্ছামৃত্যু আÍহত্যার শামিল, এমনটাও বলা হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি একে সিকরি, বিচারপতি এএম খানউইলকর, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি অশোকভূষণের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ স্বেচ্ছামৃত্যুতে এদিন শর্তসাপেক্ষে সম্মতি দেয়।

স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে এই আইনি টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। আদালত অরুণা শানবাগের স্বেচ্ছামৃত্যুতে সায় দেননি। কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন দীর্ঘ ৪২ বছর। তারপর মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। অরুণার শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তারই সাংবাদিক বন্ধু পিঙ্কি বিরানি ২০১০-এর ১৭ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানান। তার শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। শীর্ষ আদালত সেই সময় অরুণার স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন বাতিল করে দেন। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় তা নিয়ে। ১৯৭৩ সালে জুনিয়র নার্স অরুণাকে ধর্ষণ করার পর কুকুরের চেন দিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে ধর্ষক সোহনলাল।

প্রায় ১১ ঘণ্টা পর বেসমেন্ট থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অরুণাকে। চেন দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অরুণার। দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়। সম্পূর্ণ কোমায় চলে যান অরুণা।