দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যরকম কিছু রীতিনীতি

south-koreaপ্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক অদ্ভুত ছান্দনিক গতিতে এগিয়ে চলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রযুক্তির সাথে সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটালেও সংস্কৃতিকে ভুলে যায়নি তারা। দেশটিতে এমন কিছু রীতিনীতি রয়েছে যা সবাইকে বেশ অবাকই করবে। কিন্তু এটা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তারা এই অদ্ভুত কাণ্ডগুলো খুব স্বাভাবিক ও সাধারণভাবে করে থাকে। দেশটির অন্যরকম কিছু রীতিনীতি নিয়েই আজকের আলোচনা। তো চলুন শুরু করা যাক-

১) সরকার গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করে: দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার গর্ভবতী নারীদের জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড প্রদান করে। এই কার্ডে ৫০০ ডলার জমা থাকে যা ওই গর্ভবতী মহিলা নিজের চিকিৎসা ও সেবার জন্য খরচ করতে পারে। সেইসাথে সরকার তাদের একটি ডিজিটাল অলংকার দেয় যা ব্যবহার করে তারা যেকোনো পরিবহন সুবিধা নিতে পারে এবং এই মেশিন বাসে, ট্রামে গর্ভবতী মহিলাদের সিটে গোলাপি আলো জ্বালিয়ে দেয়। ফলে কেউ ওই সিটে বসে না। এভাবে গর্ভবতী মহিলারা সহজে বসে যাতায়াত করতে পারে।

২) সুপার মার্কেটে খাবারের স্বাদ নেয়া: বিস্ময়কর হলেও সত্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সুপারমার্কেটগুলোতে সহজেই ফ্রিতে যেকোনো খাবারের স্বাদ নেয়া যায়। এজন্য কোন কিছু কিনা বাধ্যতামুলক নয়।

৩) প্রায় সব বাসস্টপে ডিজিটাল বোর্ড থাকে: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় সব বাসস্টপে ডিজিটাল সাইনবোর্ড থাকে যা বাসের প্রয়োজনীয় তথ্য যাত্রীদের জানিয়ে দেয়। সেই সাথে সবসময় বাসের শিডিউল দেখায়।

৪) কোরিয়ানরা ব্যবহার্য উপহার দিতে পছন্দ করে: দক্ষিণ কোরিয়ায় টয়লেট পেপার রোল উপহার দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তারা বিশ্বাস করে রোল যত দীর্ঘ হবে ওই ব্যক্তির তত দীর্ঘ আয়ু লাভ করবে। কোরিয়ানরা সাজানোর জিনিসের থেকে ব্যবহার করা যায় এমন জিনিস উপহার দিতে পছন্দ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কোম্পানিগুলো কর্মচারীদের উপহার হিসেবে বিভিন্ন খাবারে সাজানো ঝুড়ি দিয়ে থাকে।

৫) নববর্ষে টেলিভিশন উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে: দক্ষিণ কোরিয়ার নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশন উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে থাকে।

৬) কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদের আলাদা পোশাক: প্রতিটা কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদের আলাদা আলাদা পোশাক থাকে যেন তারা হারিয়ে না যায়।

৭) স্থানীয় চার্চ এলাকার মানুষদের ছোট ছোট আকর্ষণীয় উপহার প্রদান করে: বড় বড় চার্চগুলো স্থানীয় মানুষদের ফ্রি ডাক্তারের সেবা নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয় অথবা সেলুনে চুল কাটার ব্যবস্থা করে।

৮) স্কুলগুলোতে সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ক্লাস চলে: দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলগুলো সকাল ৯ টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ক্লাস নেয়। ফলে তাদের বাসায় ফিরতে রাত ১০ টা বেজে যায়। তারা প্রায় রাত ১ টা পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তাদের লাইব্রেরিগুলো ২৪/৭ খোলা থাকে।

৯) প্রেমিক প্রেমিকাদের প্রায় একই ধরনের পোশাক: দক্ষিণ কোরিয়ায় নারী পুরুষ, প্রেমিক প্রেমিকা জুটি প্রায় একই ধরনের পোশাক পরিধান করতে ভালোবাসে। স্থানীয় দোকানিরা জুটিদের জন্য এই বিশেষ পোশাকের জোড়া সংগ্রহে রাখে।

১০) শিক্ষকদের জন্য সেরা ধন্যবাদ, এক কাপ কফি কিংবা মিষ্টি: দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষকদের বড় কোন উপহার দেয়া ঘুষ দেয়ার সামিল। তাই শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাতে বা কিছু দিতে চাইলে তা হতে পারে এক কাপ কফি কিংবা কিছু মিষ্টি।

১১) থিমযুক্ত সাবওয়ে কার: এখানকার সাবওয়ে ট্রেনগুলোতে বিভিন্ন কার্টুন অথবা জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের থিমযুক্ত কার সংযুক্ত থাকে। এই কারগুলোতে ওই জনপ্রিয় চরিত্রের স্বরে ঘোষণা দেয়া হয় এবং স্ট্যাচু সিটে বসানো থাকে।

১২) পশ্চিমা সংস্কৃতি সম্বন্ধে অজ্ঞ: দক্ষিণ কোরিয়ায় পশ্চিমা সংস্কৃতির গান শোনা হয় না। এমনকি তারা কোন পশ্চিমা সিনেমা দেখে না। তারা কোরিয়ান গান ও সিনেমা বেশি দেখে। তাদের পাঠ্যক্রমে কোন ভূগোল বিষয়ক পড়াশোনা নেই। তাই তারা পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্কে খুব কমই গান রাখে।

১৩) দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর খাওয়া হয় না: প্রায় পুরো তরুন প্রজন্ম কুকুরের মাংস খায় না। কিন্তু কুকুরের মাংস পাওয়া যায় এবং এর জন্য অনেক ডলার গুনতে হয়।

১৪) ডাস্টবিনের তুলনায় পাবলিক টয়লেট বেশি: দক্ষিণ কোরিয়ানরা খুব পরিপাটি হয় তাই সেখানে খুব একটা ডাস্টবিন নজরে পরে না। কিন্তু প্রতিটা সাবওয়ে ও পার্কে পাবলিক টয়লেট রয়েছে। প্রতিটা টয়লেটে আলাদা আলাদা কেবিন রয়েছে মহিলা, পুরুষ ও অক্ষমদের জন্য। এমনকি বাচ্চাদের ডায়াপার বদলানোর আলাদা জায়গা আছে।

১৫) অতিরিক্ত কাজের নেশা থেকে মানসিক সমস্যা: কোরিয়ানরা খুবই কর্মঠ। কিন্তু কাজ করার এই নেশা তাদের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত সময় কাজ করার নেশা তাদের এমন হয়ে গেছে যে তাদের অফিসের কম্পিউটার কেবল শুক্রবার বিকেলে বন্ধ হয়। সম্প্রতি সরকার মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

সৌজন্যে- ফাঁপরবাজ