কোরিয়া সংলাপে ইরান ইস্যু প্রভাব ফেলবে না

ইরানের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টায় কোনও বাধা হবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তার দাবি এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এই খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার আসন্ন বৈঠকের আগে ইরানের সঙ্গে চুক্তি থেকে বের হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামনের চুক্তিতেও বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বস্ত কেউ না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্ট জন বোল্টন বলেছেন, ইরান চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে সবাই বু্ঝে গেছে অসন্তোষজনক কোনও প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।

জন বোল্টন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আসল চুক্তি করতে চান।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তির মাধ্যমে খুব পরিষ্কার সংকেত দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও অযোগ্য চুক্তি মেনে নেবে না। বোল্টন আরও বলেন,  ‘যেকোনও জাতি তাদের আগের ভুল সংশোধন করার অধিকার রাখে।’

ট্রাম্পের এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইরাকে আগ্রাসনের মূল পরামর্শক ছিলেন। এমনকি উত্তর কোরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ব্যাপারেও তিনি আগ্রহী। তবে চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।

রুশ আইনপ্রণেতা ইয়েভগেনি সেরেব্রিননিকোভকে উদ্ধৃত করে দেশটির বার্তা সংস্থা আরআইএ বলেছেন, ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার ঘটনায় কোরিয়ান শান্তি প্রক্রিয়ায় সন্দেহ সৃষ্টি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ দূত ভ্লাদিমির চিঝোভ বলেন, ইরান চুক্তি টিকিয়ে রাখতে তারা কাজ করে যাবেন।

ইরান ঘোষণার পরও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টা চলার প্রমাণ দিতেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কোরিয়া সফর করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের বৈঠকের বিষয়টি সহজ করার লক্ষ্যেই তিনি সেখানে দেশটি সফর করেন।

বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। সম্পর্ক গড়ে তোল হচ্ছে। আশা করছি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সহায়তায় একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সবার জন্য ব্যাপক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা অর্জিত হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।