sentbe-top

ফের বিতর্কে সাব্বির

sabbir-rahmanবিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না সাব্বির রহমানের। ২০১৭ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে এক কিশোর ভক্তকে সাইড স্ক্রিনের পেছনে নিয়ে পেটানোর অভিযোগে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন তিনি। ওই ঘটনায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানাও দিয়েছিলেন। আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুই ফলোয়ারকে গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাব্বির রহমান ৪৯তম ওভারের শেষ বলে ফুলটস পেয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। সেই সময় ওভাবে অবিবেচকের মতো শট না খেললে হয়তো সাব্বির ম্যাচটি ফিনিশ করে আসতে পারতেন। তিনি আউট হওয়ার পর মুশফিকও একইভাবে আউট হন। কিন্তু দিনশেষে সমর্থকরা সাব্বির রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন। কারণ, এই সিরিজে সাব্বির এখনো ফ্লপ। প্রথম ম্যাচে ৩ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১২ রানে আউট হন। তার কা-জ্ঞানহীন শট খেলে আউট হওয়ার পর ক্ষোভে সমর্থকরা তাকে নিয়ে সমালোচনাপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

যে দুজন সমর্থককে ইনবক্সে বাজে ভাষায় মা-বাবা তুলে গালিগালাজ করার পাশাপাশি দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাদের একজন শাহরিয়ার নীল, অপরজন আরাফাত ভূঁইয়া হৃদয়। যে আইডি থেকে গালিগালাজ করা হয়েছে সেটার নাম ‘সাব্বির রহমান রোমান’। নীল ও আরাফাত জানিয়েছেন আইডিটি সাব্বির রহমান নিজে চালান। সেখানে তার ৯০ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে তাদের ইনবক্সে বাজে ভাষা ব্যাবহার করে গালিগালাজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নীল সেই গালিগালাজের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছেড়ে দেন। সেটা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যান। তারা দুজন নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে বিষয়টি বিসিবিকেও জানায়। ভাইরাল হওয়ার পর সাব্বির যে অ্যাকাউন্ট থেকে গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেটা সাময়িকভাবে ডিঅ্যাক্টিভ করে রাখা হয়েছে।

সাব্বিরের এমন আচরণের বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজনের কানেও পৌঁছেছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সে যদি বিসিবির আচরণবিধি ভঙ্গ করে তাহলে সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বোর্ড ব্যবস্থা নিবে। খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বলে দেওয়া আছে কিভাবে তারা ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আচরণ করবে। তাদেরও এও বলে দেওয়া আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত কিংবা সমর্থকদের সঙ্গে কথোপোকথনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে। সাব্বির বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বোর্ডের নজরেও এসেছে। সত্যিই যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করা হবে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।’

সাব্বিরের এমন আচরণে খুবই মর্মাহত হয়েছেন ওই দুই সমর্থক। তাদের একজন বলেন, ‘আসলে এটা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। আমি আমার স্ট্যাটাসে আমার মতামত প্রকাশ করেছি মাত্র। আমার একজন জুনিয়র স্ট্যাটাসের নিচে সাব্বিরকে ট্যাগ করে। এরপর সাব্বির আমাদের দুজনকে একই রিপ্লে দিয়েছে। আমি বিষয়টি আমলে নিতাম না। কিন্তু সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দিয়েছে। তাতে আমি ভয় পেয়ে যাই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রিন শটটি শেয়ার করি।’

শুধু তাই নয়, চলতি সিরিজে সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে মেহেদী হাসান মিরাজকে থাপ্পর মারারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর সাব্বিরকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথায় শেষ পর্যন্ত তাকে আরো একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সৌজন্যে- রাইজিংবিডি

sentbe-top