প্রবাসীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আমিরাতের আকাশ

amirat‘দীর্ঘ চার মাসেও আমরা পাসপোর্ট হাতে পাইনি? সরকার কেন এই বিরল সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত করলো। এখন আমাদের কী হবে? প্রবাসীদের কান্নায় আমিরাতের আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। দেশটির সরকার বিরল সুযোগ দেয়ার পরও ধীরগতির পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ডেমু-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক প্রবাসী বৈধ হতে পারেনি।’

আবেগাপ্লত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে না পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এসব প্রবাসী অ্যামনেস্টির বিরল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। “আমাদের কাজ আমরা সঠিকভাবেই করেছি। কিন্তু পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ায় ‘জব সিকার’ ভিসার আবেদন করতে পারলাম না। এ দায়ভার কার।” পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকায় প্রবাসীরা বিস্মিত।

অ্যামনেস্টির সময়সীমা শেষ হওয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জব সিকার ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। কিন্তু গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া বাংলাদেশি প্রবাসীরা ৬ মাসের জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

স্যার আমার পার্সপোর্টটা দেন, নাইলে আমার বাচ্ছা দুইটা ভাতে মইরা যাইবো। স্বামী হারানো দুই সন্তানের এই মায়ের কান্না এখন কে থামাবে?স্বামী হারানো দুই সন্তানের এই মায়ের কান্না এখন কে থামাবে? তার পরিবার পরিজনের জন্য জীবিকার তাগিয়ে হাজার হাজার মাইল দুরে পাড়ি দিয়ে আসা এই হতভাগা মা এখন কাঁদছেন শুধু একটি পাসপোর্টের জন্য। যে পাসপোর্টটি তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধ হওয়ার সুযোগ করে দিত। আমিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত কাল ২৯/১১/২০১৮ইং তারিখে। নতুন করে আর মেয়াদ বাড়ছেনা। সে এখন কোথায় যাবে? আবারও অবৈধ হয়ে এখন বাসা বাড়িতে কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে হবে। ভয় এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। দু মাস পূর্বে বৈধ হওয়ার প্রত্যাশায় দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেটে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন এই স্বামী হারানো দুই সন্তানের মা। তার পাসপোর্টটি এখন বাংলাদেশে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জালে। রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে ঢাকা আগারগাওয়ে। কিন্তু ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও তার পাসপোর্ট এখনো হাতে পায়নি। এরকম আরো অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী একটি পাসপোর্টের জন্য গুমরে কাদ্ঁছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেট প্রাঙ্গন ঘিরে। এই কান্না থামাবার শান্তনা কি কারো আছে?গতকাল রাত ১২:৪০ মিনিটে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিতরে ধারন করা এই ভিডিওটি।

Posted by Shirajul Hoque on Friday, November 30, 2018

এই বিষয়ে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানিয়েছেন, যারা পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন কিন্তু বৈধ হতে পারেননি তাদের সবাইকে আগামী সোমবার আবুধাবি দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেটে আসতে বলা হয়েছে। আমরা তাদের নামের তালিকা করে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অবৈধদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য আবেদন করবো।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরো কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় সোমবার জানানো হবে। তবে প্রবাসীদের (যারা বৈধ হতে পারেননি) আগামী সোমবার দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আসতে বলা হয়েছে। আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

এই কান্না কোন স্বজন হারানোর কান্না নয়। পরিবার পরিজনের জন্য অন্য, বস্ত্র, যোগান দিতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অাসা হতভাগা দেলোয়ার কাঁদছেন শুধু একটি পাসপোর্টের জন্য। যে পাসপোর্টটি তাকে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিত। অাগামীকাল অামিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সে কোথায় যাবে? এ বয়সে এসে সেকি অন্দকার জেলের প্রকোষ্টে দিন কাটাবে? এই ভয় এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।দু মাস পূর্বে বৈধ হওয়ার প্রত্যাশায় দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেটে পাসপোর্টের অাবেদন করেছিলেন দেলোয়ার।তার পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে ঢাকা অাগারগাওয়ে। কিন্তু অাগারগাও থেকে ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও দেলোয়ার তার পাসপোর্ট এখনো হাতে পায়নি। এরকম অারো অসংখ্য দেলোয়ার গুমরে কাদ্ঁছে অাবুধাবী বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেট প্রাঙ্গন ঘিরে।এই কান্না থামাবার শান্তনা কি কারো অাছে?

Posted by Shiblee Sadiq on Tuesday, November 27, 2018

আমিরাত সরকার বিরল সুযোগ দেয়ার পরও ধীরগতির পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ডেমু-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক প্রবাসী বৈধ হতে পারেনি। ফলে প্রবাসীরা পাসপোর্ট অধিদফতরকেই দায়ী করছেন। সরকারের অবহেলার কারণে আজ প্রবাসীদের এহেন পরিস্থিতি। সরকার প্রবাসীদের প্রতি একটু সদয় হলে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।

গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ ছিল। এ সময়ের মধ্যে অবৈধ প্রবাসীদের আবেদন করতে বলা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমার মেয়াদ বাড়ানো হয়।