খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মাশরাফির

mashrafee‘এটাই কি শেষ, এটাই কি শেষ?’ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পিছু নিয়েছে প্রশ্নটা। এ প্রশ্নের উত্তর এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে অনেকেই মনে করছেন, দেশের মাঠে শেষ ম্যাচটা বুঝি খেলেই ফেললেন মাশরাফি। বিপুল দর্শক উপস্থিতিতে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম যে ফেটে পড়ার উপক্রম হলো, সেটিও কিন্তু এ কারণেই!

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনের প্রায় শেষ প্রশ্নটাই হলো দেশের মাঠে মাশরাফির ‘শেষ’ নিয়ে। ‘হতেও পারে, না–ও হতে পারে’— একটা অনিশ্চয়তায় ভরা উত্তর বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক আগেই দিয়ে রেখেছেন। তিনি প্রায়ই একটা দার্শনিকসুলভ কথা বলে থাকেন, ‘জীবনে কোনো কিছু আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে করি না’। অধিনায়কের সেই দর্শনে বিশ্বাস রেখেই জানতে চাওয়া হলো, সিলেটের এই ম্যাচে কখনো কি মনে হয়েছে, আজই দেশের মাঠে শেষ ওয়ানডেটা খেলে ফেললেন?

মাশরাফি হাসলেন। হাসি সামলে পুরোনো কথাটাই বললেন, ‘সত্যি বলতে, ২০১১ (বিশ্বকাপের পর) থেকে প্রতি ম্যাচ খেলার সময়ই আমার মনে হয় যে যদি আবার হাঁটুতে (আঘাত) লেগে যায়, যেটা আগেও হুট করে হয়েছে। ২০১১ থেকেই এ রকম মনে হয়। যে অর্থে বলেছেন, সত্যি বলতে একেবারে গভীর থেকেই সত্য কথাই বলেছি, যে কথা বলেছি, মনের কথাই বলেছি যে কখনো এত গভীরভাবে ভাবিনি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। সেসব নিতে আরও প্রস্তুত হতে চাই। (২০১৯) বিশ্বকাপের পর কী করব, সেটা বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলার পর ঠিক করব। যদি মনে হয় খেলব না, হয়তো ঘরে ফিরে বলব। আর যদি মনে হয়, পারছি খেলতে, (বিশ্বকাপ থেকে) এসে পর্যালোচনা করে আপনাদের জানাব। আপনারা বিভ্রান্ত হইয়েন না।’

মাশরাফির কথায় বোঝা যাচ্ছে, যেখানেই খেলুন তাঁকে নিয়ে ‘শেষ’ বলার সময় হয়নি । রহস্যময় ক্যারিয়ার তাঁর। বারবার মচকেছেন, ভাঙেননি। বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার, তাও আবার পেসার, বারবার চোটে পড়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ১৭ বছরে গড়াবে, একটা সময় কে ভেবেছিল! সবাইকে অবাক করে দিয়ে সংশপ্তক হয়ে মাশরাফি যেমন এগিয়েছেন, ঠিক একইভাবে হয়তো হুট করে ‘গুড বাই’ জানিয়ে দেবেন ২২ গজকে, যেভাবে জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে!

সৌজন্যে- প্রথম আলো