cosmetics-ad

ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

missile
ফাইল ছবি

ফের নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। গত বৃহস্পতিবার ওয়নসান শহর থেকে স্বল্প পাল্লার দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। মূলত উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের রাশিয়া সফরের পর থেকেই তার হুঙ্কার বাড়তে থাকে। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল তারা আবার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে। আর সে অনুযায়ীই তারা পথ চলতে থাকে। তিন মাস আগেও তারা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এবারও তারা তার প্রমাণ রাখল।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়া সফর ও তার ফাঁকে সীমান্তে উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাত্ দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন কোরীয় উপদ্বীপে সত্যিকার অর্থেই শান্তির সুবাতাস বইছে। এ নিয়ে দুই নেতাও তাদের হূদ্যতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। মোটামুটি এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অনেকটা কমে আসবে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে উত্তর কোরিয়ার আবারও তর্জন-গর্জন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো সে ধারণাকে পালটে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠবে কোরীয় উপদ্বীপ। যদিও উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, দক্ষিণের ‘যুদ্ধবাজদের’ অস্ত্র আমদানি ও যৌথ মহড়া বন্ধেই তারা এ পরীক্ষা চালিয়েছে। এ নিয়ে কিম বলেছেন, আমাদের দেশের নিরাপত্তায় আমরা যে কোনো পদক্ষেপই নিতে পারি। কেননা দক্ষিণের যে হুমকি রয়েছে তা মোকাবিলায় আমাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আর সেই বাস্তবতা থেকেই আমরা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। তবে সেদিনের এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাকে শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি হুমকি মোকাবিলাই করা হয়েছে এমনটি ভাবছেন না অনেকে।

তাদের মতে, এটি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটা সতর্কবার্তা। কেননা যৌথ মহড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হয়। কাজেই সে বিবেচনায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি হুমকি বটে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা একে উসকানিমূলক আখ্যায়িত করে এ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। জাপানও একে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে। তবে এক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা একটু ভিন্নপথে। চীন পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে। তারা অবিলম্বে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হ্যানয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর গত মাসে ডিমিলিটারাইজড জোনে ট্রাম্প-কিম সাক্ষাত্ অনেকের মনেই নতুন করে আশার সঞ্চার করেছিল। তারা ভেবেছিলেন, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এর মাধ্যমে নতুন পথের সূচনা হবে। কিন্তু স্বল্প পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সেই আশাকে গুঁড়েবালি করে দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আবারো বিবদমান পক্ষগুলো নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে থাকবে। বাড়বে যুদ্ধের আশঙ্কা। বিশ্বে নতুন করে সৃষ্টি হবে মেরুকরণের। কার দল কত পাল্লায় ভারী, সে বিবেচনায়ই সবাই উঠেপড়ে লাগবে। মাঝে অর্থলিপ্সু অস্ত্র বিক্রেতাদের পকেট ভারী হবে।

সৌজন্যে- ইত্তেফাক