cosmetics-ad

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৯৫ রান

sri-lanka

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছে তামিম ইকবালের দল। শেষ ম্যাচটাকে চোখ রেখেছিল তারা, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর জন্য। তবে কাজটা হয়তো কঠিনই হতে যাচ্ছে টাইগারদের কাছে। কারণ, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ২৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ আর কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে শ্রীলঙ্কা। ম্যাথিউজ করেন সর্বোচ্চ ৮৭ রান। কুশল মেন্ডিস আউট হন ৫৪ রান করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ করেছিল ৩১৪ রান। জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ২২৩ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করেছিল ২৩৮ রান। জবাবে ৩২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জিতে গিয়েছিল লঙ্কানরা। এই ম্যাচে ২৯৫ রানের লক্ষ্য টপকাতে পারে কি না তামিম ইকবালের দল, সেটাই দেখার বিষয়।

মূলতঃ সিরিজ জয়ের তাড়া নেই। শ্রীলঙ্কাও তাই এই ম্যাচটাকে নিয়েছে নিয়মরক্ষার হিসেবে। যে কারণে তারা চারটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে আজ। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর জন্য। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হারলেন তামিম ইকবাল। ফলে প্রথমে করতে হলো ফিল্ডিং।

টস জিতে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কাকে শুরুতেই একটা ধাক্কা দিতে পেরেছিলেন পেসার শফিউল ইসলাম। দলীয় ১৩ রানের মাথায় আভিসকা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ একটা ব্রেক থ্রু এনে দিতে সক্ষম হন শফিউল।

কিন্তু ১৩ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর সতর্ক শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়ায় ধীরে ধীরে। অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরার ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের সামনে ইনিংসটাকে বড় করতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা।

এক এক করে ৮৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। রুবেল, তাইজুল, মিরাজ, সৌম্য কিংবা মাহমুদউল্লাহ- কেউই পারছিলেন না এই জুটি ভাঙতে।

অবশেষে সফল হলেন তাইজুল ইসলাম। তার করা ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের হাতে ক্যাচ দেন দিমুথ করুনারত্নে। ৬০ বলে ৪৬ রান করে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে যান করুনারত্নে। ৬টি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি।

দলীয় ৯৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর কেন যেন নিঃসঙ্গ হয়ে যান কুশল পেরেরা। হয়তো বা এ কারণেই পরের ওভারে রুবেলের বলেই একইভাবে উইকেট দেন কুশল পেরেরা। ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন পেরেরা। ৫১ বলে এ সময় ৪২ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। দলীয় রান ৯৮। অর্থ্যাৎ ১ উইকেটে ৯৬ থেকে শ্রীলঙ্কা ৯৮ পরিণত হয় ৩ উইকেটে।

৯৬ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরার সুযোগ পেলেও সেটা কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। কারণ, কুশলি মেন্ডিস আর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ দাঁড়িয়ে যান পাহাড় সমান দৃঢ়তা নিয়ে। দু’জন মিলে গড়ে তোলেন ১০১ রানের বিশাল একটি জুটি।

দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় আউট হন কুশল মেন্ডিস। ৫৮ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৫৪ রান করেন তিনি। এরপর দাসুন সানাকাকে নিয়ে আরও একটি মাঝারিমানের জুটি গড়ে তোলেন ম্যাথিউজ। ১৪ বলে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৩০ রানে আউট হন সানাকা। সেনান জয়সুরিয়াও মাঠে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ৭ বলে তিনি করেন ১৩ রান।

শেষ দিকে আকিলা ধনঞ্জয়া আউট হয়ে গেলেও ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ৫ বলে করে দিয়ে যান ১২ রান। তিনি ছিলেন অপরাজিত। বাংলাদেশের হয়ে শফিউল ইসলাম এবং সৌম্য সরকার নেন ৩টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন এবং তাইজুল ইসলাম।