মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩ জুলাই ২০২৫, ৪:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

ট্রাম্পের হুমকি: ইলন মাস্ক ও যোহরান মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল কি সম্ভব?



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি স্পেসএক্স ও টেসলার সিইও ইলন মাস্ক এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী যোহরান মামদানির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিল ও প্রত্যাবাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত?

যোহরান মামদানি জন্মগ্রহণ করেন উগান্ডার কামপালায়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে। তিনি মাত্র সাত বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে কানাডায় যান ও সেখানকার নাগরিক হন। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আসেন এবং ২০০২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের একজন সমর্থক, টেনেসির রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস, বিচারপতি বিভাগকে অনুরোধ করেছেন মামদানির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে। তার অভিযোগ, মামদানি ‘সন্ত্রাসবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল’ এবং নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন’ করেছেন।

একইসঙ্গে, ট্রাম্প নিজেও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মামদানি যদি ICE এজেন্টদের বাধা দেন, তবে তাকে “গ্রেপ্তার” করা হতে পারে। তিনি মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

এদিকে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “ট্যাক্স ছাড় ছাড়া ইলনকে হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।” পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত সরকারী উপদেষ্টা সংস্থা DOGE-এর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দেন।

দেশটির আইন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিককরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্বপ্রাপ্ত কেউ কেবল দুটি পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন:

যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করেছেন। যদি তিনি যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাসবাদ বা রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া, অন্য দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান বা সরকারে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৬৭ সালে স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছিল—কারও নাগরিকত্ব কেবলমাত্র আইনগতভাবে প্রমাণিত বিশেষ পরিস্থিতিতেই বাতিল করা যায়। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সরকারের সমালোচনার কারণে নয়।

নেভাডা ইউনিভার্সিটির আইন প্রফেসর মাইকেল কাগান বলেন,“মাস্ক ও মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া মন্তব্য।”

অতীত বলছে বিশ শতকের প্রথমার্ধে, বিশেষ করে দুই বিশ্বযুদ্ধ ও ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলাকালে, বহু প্রাকৃতিককরণপ্রাপ্ত নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের পর থেকে এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নজির হিসেবে, সোভিয়েতপন্থী কার্যক্রম বা নাৎসি-সহানুভূতির অভিযোগে কয়েকজন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই মানদণ্ডে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া খুবই বিরল। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইলন মাস্ক ও যোহরান মামদানির বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ বক্তব্য এসেছে, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।