মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২ নভেম্বর ২০২৫, ৭:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

সেন্টমার্টিন খুললেও যাচ্ছে না কোনো জাহাজ


Saint Martin

দীর্ঘ ৯ মাস পর শনিবার থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ সেন্টমার্টিন দ্বীপ। সরকারি অনুমতি সত্ত্বেও প্রথম দিনেই কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা না করায় হতাশ হয়ে ফিরতে হলো পর্যটকদের।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বারো আউলিয়া’ নামের দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং মালিকপক্ষকে বিষয়টি জানানোও হয়েছে। “তবু জাহাজ মালিকরা এখনও অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করেনি,” বলেন তিনি।

তবে জাহাজ মালিক সমিতি বলছে, দিনে গিয়ে দিনে ফেরার বাধ্যবাধকতায় পর্যটক পাওয়া যাবে না। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকলে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালানো সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা জাহাজ চালাব না।”

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক বলেন, “ছুটি নিয়ে এত দূর এসেছি। কিন্তু জাহাজ না যাওয়ায় ফিরে যেতে হবে- এটা ভেবে খুবই খারাপ লাগছে।”

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। তবে পরিবেশ সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানতে হবে ১২টি নির্দেশনা। নভেম্বর মাসে দ্বীপে রাতযাপন করার সুযোগও থাকবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আইনগত জটিলতার কারণে এবারও শুধু কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই জাহাজ চলবে। উখিয়ার ইনানী রুটে যাতায়াতের সুযোগ নেই।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবেশ সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। আগামী তিন মাস- নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত- দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

দ্বীপটিতে ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশ দূষণে হুমকির মুখে পড়েছিল এর প্রতিবেশ ব্যবস্থা। তবে পর্যটন বন্ধ থাকায় গত ৯ মাসে পরিবেশের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।