মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

সংশোধিত মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ টিআইবির


TIB

উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ বৈষম্যমূলক কিছু বিধান রয়ে গেছে বলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এসব ধারা কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

রোববার (২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিনের অকার্যকরতার অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনেক প্রস্তাব খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সন্তোষজনক হলেও, গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংশোধনী বাদ পড়ায় কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানসহ সাত সদস্যের মধ্যে দুজনকে খণ্ডকালীন নিয়োগের বিধান বৈষম্য সৃষ্টি করে। সব কমিশনারের পদমর্যাদা, এখতিয়ার ও সুবিধা সমতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবি জানায়, চেয়ারম্যান ও সদস্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনীতদের নাম প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এ ছাড়া আটক স্থানের বৈধতা ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতের বিধানও উপেক্ষিত হওয়ায় সংস্থাটি হতাশা প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকারবিরোধী কোনো আইন শনাক্ত হলে কমিশনের সংশোধন সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকা উচিত ছিল। পাশাপাশি ধারা ১৪ অনুযায়ী এই আইনকে মানবাধিকারসংক্রান্ত অন্যান্য আইনের ওপর প্রাধান্য দিলে কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতো।

সব অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক রাখার বিধানকে দীর্ঘসূত্রতা বাড়াবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরো কঠিন করে তুলবে বলে মনে করে টিআইবি।

সরকারি কর্মচারীর প্রেষণ সীমিত করে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে নামানো, নিয়োগ প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও যোগ্যতা নির্ভর করা এবং প্রেষণে কমিশনের মতামত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বিবেচনায় নেয়নি সরকার—বলে জানায় সংস্থাটি।

কমিশনের বাৎসরিক আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখলে স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে বলে মন্তব্য টিআইবির।

শেষ পর্যন্ত টিআইবির দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড- বিশেষ করে গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনস-এর নির্দেশনা অনুসারে কমিশনকে স্বাধীন, কার্যকর ও জনবিশ্বাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে অধ্যাদেশটির দ্রুত সংশোধন প্রয়োজন।